কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. আবু রায়হান (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পূর্ব সরকারপাড়া জামে মসজিদের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদকবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চিলমারী উপজেলার পূর্ব সরকারপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে মো. আবু রায়হানকে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে তার কাছ থেকে ৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মো. আবু রায়হান চিলমারী উপজেলার ছোট কুস্টারি মৌজার বাসিন্দা। তিনি মো. আসমত আলীর ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদকদ্রব্যের বিস্তার ঠেকাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পূর্ব সরকারপাড়া জামে মসজিদের সামনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
অভিযান শেষে গ্রেপ্তার মো. আবু রায়হানকে উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চিলমারী মডেল থানায় নেওয়া হয়। সেখানে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নয়ন কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইয়াবাসহ ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেটের উৎস, এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং মাদক সরবরাহের কোনো চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় এসব বিষয় আরও পরিষ্কার হবে।