পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন ও পরমতসহিষ্ণুতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে নিজেদের পাঠ্যবইয়ে ধারাবাহিক ও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সৌদি আরব। গত কয়েক বছর ধরে সৌদি পাঠ্যপুস্তকে উগ্রপন্থা, বৈষম্যমূলক ও নির্দিষ্ট ধর্মবিদ্বেষী বিষয়বস্তু পরিহার করে সহনশীলতা, আন্তঃধর্মীয় সহাবস্থান এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘ইমপ্যাক্ট-এসই’ (IMPACT-se)-এর সর্বশেষ পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল-এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমপ্যাক্ট-এসই সংস্থাটি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সৌদি আরবের বিদ্যালয়গুলোতে পঠিত মোট ১৩৬টি পাঠ্যবই নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের অন্য ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি পারস্পরিক সম্মান এবং মুক্ত সংলাপে উৎসাহিত করতে বইগুলোর কনটেন্টে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বিশেষ করে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ক বইগুলোতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশায় ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং তৎকালীন আরবের অন্যান্য অমুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং ঐতিহাসিক চুক্তির বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি, ইসলামে যুদ্ধের সময়ও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও কোনো ক্ষতি না করার যে স্পষ্ট বিধান রয়েছে, তা নতুন পাঠ্যক্রমে জোর দিয়ে শেখানো হচ্ছে।
ইমপ্যাক্ট-এসই উল্লেখ করেছে, আগে অমুসলিম ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী (যেমন ইহুদি, খ্রিষ্টান ও পারসিক) মানুষদের প্রতি যেসব নেতিবাচক বর্ণনা ও দৃষ্টিভঙ্গি পাঠ্যবইয়ে বিদ্যমান ছিল, তার বড় অংশই মূল বই থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক পরিভাষার ক্ষেত্রেও এসেছে পরিবর্তন। ভৌগোলিক ও ইতিহাস বিষয়ক পাঠ্যবইগুলোতে আগে যেখানে ইসরায়েলকে ‘ইহুদিবাদী শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো, বর্তমানে সেটির বদলে ‘ইসরায়েলি দখলদার’ (Israeli Occupation) শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঠ্যবইয়ে ব্যবহৃত ভৌগোলিক মানচিত্রগুলোতে এখনও ইসরায়েল নাম বা দেশের স্বীকৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এছাড়া সামাজিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সৌদি আরবের নতুন পাঠ্যবইগুলোতে নারীদের সম্পৃক্ততা ও বিভিন্ন পেশায় তাদের ভূমিকার ছবি আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থান পেয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল