ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সব ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে অত্যন্ত সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন শেষ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সার্বিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কমিশন সম্পূর্ণভাবে তৃপ্ত ও আশ্বস্ত।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর নির্বাচন কমিশন ভবনে ভোটগ্রহণ পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ভোট প্রদান সম্পর্কিত যাবতীয় আপডেট সবিস্তারে তুলে ধরেন।
সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিকেল ৪টা পর্যন্ত উক্ত আসনের সবকটি ভোটকেন্দ্রে কোনো বাধা ছাড়াই একযোগে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে। দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রদেয় ভোটের হিসাব তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, ওই সময় পর্যন্ত সার্বিকভাবে ৪৮ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সবকটি কেন্দ্রের চূড়ান্ত গণনা শেষ হওয়ার পরেই কেবল চূড়ান্ত ভোটের শতভাগ সুনির্দিষ্ট হার স্পষ্টভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো সম্ভব হবে বলে তিনি ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন পরবর্তী অনুভূতি ও মূল্যায়নের কথা ব্যক্ত করে ইসি সচিব দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমরা নিশ্চিতভাবেই একটি অত্যন্ত সুন্দর, নিরপেক্ষ এবং সুশৃঙ্খল ভোট সম্পন্ন করতে পেরেছি। পুরো দিন জুড়ে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। সার্বিক ভোট ব্যবস্থাপনার কারণে আমরা অবশ্যই এই উপনির্বাচনের ফল ও পরিবেশ নিয়ে শতভাগ সন্তুষ্ট।”
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেন ইসি সচিব। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং কর্মকর্তার পরিচয়পত্র বা কার্ডে নিজের ছবি অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, খবরটি পাওয়ার সাথে সাথেই তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বিষয়টি দ্রুত দেখার জন্য অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ওই কর্মকর্তার সঠিক পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত করার পর সব জটিলতার নিরসন ঘটানো হয়।
এ ছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে বেশ কিছু কম বয়সী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উপস্থিতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেন। আখতার আহমেদ বলেন, ভোটকেন্দ্রে যাদের কম বয়সী হিসেবে দেখা গিয়েছিল, তারা প্রকৃতপক্ষে নির্ধারিত ভোটার ছিলেন না। সাধারণ কৌতূহলবশত কিংবা নিজস্ব কোনো দলীয় পরিচয়ের তাগিদে তারা মূলত কেন্দ্রের আশে পাশে এসে উপস্থিত হতে পারেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিয়ে এর সুষ্ঠু সমাধান নিশ্চিত করেছেন।