মদ ও সিগারেটের লোভ দেখিয়ে এক নাবালক কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতনের দায়ে যুক্তরাজ্যের ৬৪ বছর বয়সী ট্রেসি ব্যানক্রফট নামের এক বৃদ্ধা নারীকে দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন সেদেশের আদালত। একজন বয়স্ক নারীর হাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরের এমন ভয়াবহ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার ঘটনায় ব্রিটেনে ব্যাপক আলোড়ন ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত ওই নারীকে ৯ বছর ৪ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইয়র্ক ক্রাউন কোর্টে এই স্পর্শকাতর মামলার চূড়ান্ত রায় ও সাজা ঘোষণা করা হয়। রায় প্রদানকালে আদালত জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত নারী অপরাধের সাজা হিসেবে ৯ বছর ৪ মাসের জেল খাটার পাশাপাশি আজীবনের জন্য যৌন অপরাধীদের জাতীয় তালিকায় নিবন্ধিত থাকবেন। ভুক্তভোগী কিশোর আদালতকে জানায়, মদ এবং সিগারেটের বিনিময়ে তাকে ওই নারী বিভিন্ন সময়ে প্রলুব্ধ করতেন। এমনকি তাকে যৌন নির্যাতনের প্রথম দিনই দুই গ্লাস অতিরিক্ত কড়া রাম পান করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
আদালতে পেশ করা প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রথম দিন মদ পানের পর হঠাৎ করে ওই নারী কিশোরটিকে চুমু দেন, যাতে আকস্মিক ভয়ে এবং গভীর বিস্ময়ে কিশোরটি সম্পূর্ণ নিশ্চুপ ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। এরপর থেকে কিশোরটির অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ট্রেসি ব্যানক্রফট অন্তত ২০ বারেরও বেশি তাকে বিভিন্নভাবে যৌন নির্যাতন করেন। যদিও পরবর্তীতে আদালতে অভিযুক্ত নারী অন্তত ৯ বার এমন জঘন্য অপরাধ করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেন।
ঘটনার সূত্রপাত দীর্ঘদিনের হলেও ভুক্তভোগী কিশোর ২০২৩ সালে সাহস সঞ্চয় করে প্রথম পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। পরবর্তীতে অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে পুলিশ ব্যানক্রফটকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে ৮টি নির্দিষ্ট যৌন অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। প্রথমে তিনি আদালতের কাছে নিজের অপরাধ অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও অবশেষে বিচার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে গত সেপ্টেম্বর মাসে শিশুদের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার তিনটি প্রধান অভিযোগ আদালতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বীকার করেন।
বিচার কার্য চলাকালে ভুক্তভোগী কিশোরের মা আদালতে আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি জানান, এমন পৈশাচিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে তাঁর ছেলে মানসিকভাবে পুরোপুরি বিপর্যস্ত ও ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, অতিরিক্ত মদ্যপানে আসক্তির কারণেই ওই নারীর স্বাভাবিক আচরণে বিরূপ প্রভাব পড়েছিল এবং নিজের এমন অপকর্মের জন্য তিনি আজ গভীরভাবে অনুশোচিত।
তবে সমস্ত যুক্তি খণ্ডন করে মামলার চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে বিচারক সাইমন হিকি স্পষ্ট করে জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির এই চরম হীন কর্মকাণ্ডের কারণে ভুক্তভোগী কিশোরটির জীবনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। এই ঘটনাটিতে একজন নাবালককে ধারাবাহিকভাবে প্রলুব্ধ করে যৌন নির্যাতনের সুস্পষ্ট ও অকাট্য উপাদান বিদ্যমান থাকায় তাকে উপযুক্ত সাজার মুখোমুখি হতেই হচ্ছে।
সূত্র: ইয়াহু