দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং সামগ্রিক উন্নতির মূল চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে তরুণ প্রজন্মের হাতে। ঠিক এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা খামেনি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক বার্তা প্রদান করেছেন। জ্ঞানচর্চা, আত্মশুদ্ধি এবং উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার এই উদাত্ত আহ্বান পুরো দেশজুড়ে তরুণ সমাজে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনা ও নতুন মানসিকতার সৃষ্টি করেছে।
দেশের ভবিষ্যৎ সুদৃঢ়ভাবে বিনির্মাণে তরুণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অপরিসীম এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পাঠানো বিভিন্ন চিঠির একটি সুনির্দিষ্ট ও অনুপ্রেরণাদায়ক জবাব দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা খামেনি। সেই চিঠিতে তিনি তরুণ প্রজন্মকে জ্ঞান, দৃঢ় বিশ্বাস এবং আত্মশুদ্ধির এক অপূর্ব সমন্বয়ের মাধ্যমে নিজেদের পরিপূর্ণভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক শক্তি ও জাতীয় সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে আরও অধিকতর প্রচেষ্টা চালানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে পাঠানো ওই বিশেষ চিঠিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা উল্লেখ করেন যে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ যুগের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য কেবল গতানুগতিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি আধ্যাত্মিক আত্মশুদ্ধি, স্রষ্টার সঙ্গে গভীর ও নিবিড় আত্মিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পবিত্র কোরআন ও পবিত্র আহলে বাইতের শিক্ষার বাস্তব উপলব্ধি অর্জন করা তরুণ সমাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই আদর্শিক ও নৈতিক ভিত্তিই একজন তরুণকে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক, সৎ এবং সমাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে থাকে।
মোজতবা খামেনি তাঁর মূল্যবান বাণীতে আরও জোরালোভাবে বলেন যে, দেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও শক্তিশালী, উন্নত ও আত্মনির্ভরশীল করতে হলে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কঠোর শ্রম এবং নিত্যনতুন উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রিয় ইরানের অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত, সামাজিক এবং প্রতিরক্ষা শক্তি ও সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে তরুণদের সুপ্ত মেধা, সৃজনশীলতা ও মননের সঠিক প্রয়োগ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। উদ্যমী যুব সমাজের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণই যেকোনো আধুনিক রাষ্ট্রের চূড়ান্ত সাফল্য নিশ্চিত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
চিঠির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক বিশ্লেষণ করে সর্বোচ্চ নেতা জানান যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তরুণ ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া এই চিঠিগুলো মূলত তাদের অদম্য মানসিক শক্তি, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের অবিচল সংকল্প এবং অর্পিত দায়িত্ববোধের এক জীবন্ত ও অনন্য প্রতিচ্ছবি। এই উচ্চাশা ও ঐতিহাসিক অঙ্গীকার কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং এটি পবিত্র ইসলামের শাশ্বত মহান শিক্ষা এবং মহান ইমাম খোমেনি ও শহীদ খামেনির ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সরাসরি এবং গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
এই ধারাবাহিকতা ও আদর্শিক মেলবন্ধন নেতৃত্ব এবং দেশের তরুণ সমাজকে একই অভিন্ন লক্ষ্যে শক্তভাবে একত্রিত করেছে বলে মনে করেন তিনি। তাদের এই যৌথ ও সুসংহত পথচলা দেশকে সামনের দিকে আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। যুব শক্তির এই মেলবন্ধন বিপ্লবের চেতনাকে আরও শাণিত করবে।
পরিশেষে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, ইমাম মাহদির পবিত্র দোয়া ও অশেষ অনুগ্রহে দেশের সার্বিক উন্নতি এবং একটি শক্তিশালী ও আদর্শ ইসলামি-ইরানি সভ্যতা গড়ে তোলার যে দীপ্ত শপথ তরুণরা নিয়েছে, সেই অঙ্গীকারবদ্ধ শক্তির অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতে আরও অনেক বেশি কার্যকর এবং দ্রুততর হবে। যুব সমাজের এই অন্তহীন উদ্যম, ত্যাগ ও একাগ্রতা একদিন সমগ্র দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করেছেন।
এদিকে, দেশের মূলধারার মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ঐতিহাসিক বার্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গুগল নিউজ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনলাইন মাধ্যমে তরুণদের মাঝে এই নির্দেশনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে। দেশের উন্নয়ন, গবেষণা ও অগ্রযাত্রায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার এই নীতি গোটা অঞ্চলের রাজনীতি ও সমাজ ব্যবস্থায় নতুন এক বার্তার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারক ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা কেবল ইরান নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের সামগ্রিক যুব সমাজকে আত্মশুদ্ধি ও অর্জিত জ্ঞানে পরিপূর্ণভাবে বলীয়ান হতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।