পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ অন্তত ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একটি স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার পরিবর্তন করার সময় হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে চারপাশ কেঁপে ওঠে। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের মাতম এবং দেশটির অবহেলিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর জরুরি পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন উঠেছে।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সিন্ধু প্রদেশের থারপারকার জেলার এক সরকারি পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। সেখানে অবস্থিত পিপলস প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইনিশিয়েটিভ (পিপিএইচআই) পরিচালিত একটি অ্যাম্বুলেন্সে কর্মীরা যখন রুটিন অনুযায়ী অক্সিজেন সিলিন্ডার পরিবর্তন করছিলেন, ঠিক তখনই অসাবধানতাবশত বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দ্রুত আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল এবং পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকর্মীদের প্রাথমিক বিবরণে জানা গেছে, আগুন লাগার ওই আশঙ্কাজনক মুহূর্তে একটি জরুরি স্থানান্তরের জন্য অ্যাম্বুলেন্সটির ভেতরে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় অপেক্ষমাণ ছিলেন। আগুন লাগার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই অক্সিজেন সিলিন্ডারে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুরো যানবাহনে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ভেতরের যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষে প্রাণ বাঁচিয়ে বাইরে বের হওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে পিপিএইচআই-এর একজন ডিসপেনসার, অ্যাম্বুলেন্সের চালক, কেন্দ্রের একজন নিরাপত্তাপ্রহরী এবং আরেকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন যে মৃতদের তালিকাভুক্তদের মধ্যে সেই অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁর সঙ্গে থাকা দুজন সহায়কও ছিলেন।
অগ্নিদগ্ধ ও মারাত্মকভাবে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য মিথির সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ এবং একজন নারী অ্যাটেনডেন্ট রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উদ্ধারকারী দল এবং স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে বিস্তারিত তদন্ত কাজ পরিচালনা করছেন।
দুর্গম ও শুষ্ক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত থারপারকার জেলার অধিবাসীরা সুচিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য পুরোপুরি সরকারি কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভর করে থাকেন। এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ ধরনের ভয়াবহ নিরাপত্তা ত্রুটি ও বিস্ফোরণের ঘটনা পুরো এলাকার স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের সার্বিক পরিচালনা ব্যবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: জিও নিউজ