ভারতের উত্তর প্রদেশে সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের নিয়মে এক যুগান্তকারী ও কঠোর পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজ্যের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের নতুন নিয়োগ নীতি অনুযায়ী, যেকোনো আন্দোলন বা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির দরজা স্থায়ীভাবে বা সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে। অপরাধমুক্ত ও দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের এই নতুন উদ্যোগ রাজ্য জুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশের সব ধরনের সরকারি বিভাগ, করপোরেশন, কাউন্সিল, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত ও স্থানীয় নগর সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে চরিত্র যাচাই ও পুলিশি পরীক্ষার এই নতুন শর্তাবলি অবিলম্বে কার্যকর হবে। নতুন নীতিমালায় পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, আন্দোলন বা প্রতিবাদের নামে যারা সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছেন, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের সময় অনুত্তীর্ণ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ থাকছে।
নতুন এই নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, হত্যা, ধর্ষণ, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগ পরীক্ষায় নানা জালিয়াতি এবং সাইবার অপরাধের মতো গুরুতর ফৌজদারি মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কোনোভাবেই সরকারি চাকরির উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন না। একই সঙ্গে প্রার্থীদের তাঁদের অতীত অপরাধের সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য যথাযথভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী যদি নিয়োগের সময় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন করার চেষ্টা করেন, তবে পরবর্তীতে বিষয়টি উন্মোচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর নিয়োগ বা আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হবে।
তবে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও গতিশীল করতে নীতিমালায় কিছুটা শিথিলতার ছোঁয়াও রাখা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থীদের চূড়ান্ত চরিত্র সত্যানুসন্ধান এবং পুলিশি যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই তাঁদের সাময়িকভাবে নিয়োগপত্র প্রদান করা যাবে। তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদগুলোর ক্ষেত্রে পূর্বেই বিস্তারিত চরিত্র যাচাই ও ব্যাকগ্রাউন্ড পরীক্ষা সম্পন্ন করা শতভাগ বাধ্যতামূলক থাকবে।
প্রার্থীদের পুলিশি যাচাইকরণের পরিধিও এবার বেশ সম্প্রসারিত করা হয়েছে। প্রার্থীর নিজ জেলা ছাড়াও গত পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি যে যে জেলায় এক বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করেছেন, সেসব স্থানেও সরাসরি গিয়ে তথ্য অনুসন্ধান চালানো হবে। প্রার্থীর সঠিক বসবাসের ইতিহাস ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার বিষয়টিও এই নতুন পুলিশি প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর নীতির ফলে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সততা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা আগের চেয়ে অনেক বেশি আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে