ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:৫৮ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ১০ কনটেইনার কাঁচা তামাকের একটি বিশাল চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য অবিশ্বাস্যভাবে কম দেখিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার এক সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই সাড়া জাগানো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক পর্যালোচনা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো বিশেষ অভিযানে মোট ১৫০ মেট্রিক টন কাঁচা তামাক জব্দ করা সম্ভব হয়। গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বন্ড সুবিধার আওতায় এই বিপুল পরিমাণ তামাক বাংলাদেশে আনা হয়েছিল।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিবৃতির মাধ্যমে কাস্টমস গোয়েন্দা শাখা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির বিশেষজ্ঞদের হিসাব ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আটক করা এই বিপুল পরিমাণ কাঁচা তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে দেশের বাজারে আনুমানিক ২১ কোটি ৪৩ লাখ শলাকা উচ্চমানের প্রিমিয়াম সিগারেট তৈরি করা সম্ভব হতো। আর বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী তৈরি করা এসব সিগারেটের সম্ভাব্য খুচরা বিক্রয়মূল্য দাঁড়াত প্রায় ৪৯৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এই চালানটি আটকের মূল চালিকাশক্তি ছিল আমদানিকারকের ঘোষিত দামের সঙ্গে পণ্যটির আন্তর্জাতিক দামের বিশাল ও অস্বাভাবিক ফারাক। নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখা যায়, একই সমজাতীয় এবং একই এইচএস কোডের পণ্য এর আগে প্রতি কেজি ৫ দশমিক ১০ মার্কিন ডলার দরে শুল্কায়ন করা হয়েছিল। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই চালানে প্রতি কেজি কাঁচা তামাকের ঘোষিত মূল্য বা ইনভয়েস ভ্যালু দেখানো হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৪৫ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ পূর্ববর্তী আমদানির তুলনায় এই চালানের ঘোষিত দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম দেখানো হয়েছে। আগের শুল্কায়নের প্রকৃত মূল্য বিবেচনা করা হলে শুধু আমদানি পর্যায়েই এই চালানের সঙ্গে প্রায় ২১ কোটি ১২ লাখ টাকার বড় অংকের রাজস্ব ফাঁকির গভীর সংযোগ রয়েছে।

আমদানি পণ্যের মূল্য বাজারে প্রচলিত দামের চেয়ে অনেক কম ঘোষণা করে বিপুল পরিমাণ শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়ার এই অপকৌশল দেশের কাস্টমস ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের একটি বড় সংকট। বিশেষ করে তামাক ও সিগারেটের মতো অত্যন্ত উচ্চ করযুক্ত বাণিজ্যিক খাতে এই ধরনের আন্ডার-ইনভয়েসিং বা শুল্ক ফাঁকির বড় ঝুঁকি থাকে। কাস্টমস গোয়েন্দারা এ বিষয়ে সতর্ক করে জানিয়েছেন, বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত তামাকের প্রকৃত ব্যবহার এবং তা দিয়ে উৎপাদিত পণ্যের যাবতীয় হিসাব যদি কঠোরভাবে সংরক্ষণ ও তদারকি না করা হয়, তবে এর শুল্ক ফাঁকির সুযোগ অনেক বেড়ে যায়। এই কাঁচামাল কেবল নির্দিষ্ট উৎপাদনে ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও তা কালোবাজারে খোলা জায়গায় চলে গেলে সরকারের বিশাল আর্থিক ও রাজস্ব ক্ষতি নিশ্চিত হয়। পুরো চালানটি বর্তমানে কাস্টমসের কড়া হেফাজতে রয়েছে এবং এর পেছনে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর