ককপিটের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামত শেষে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিশেষ ভিভিআইপি ফ্লাইটটি। ফ্লাইটটি ত্রুটিমুক্ত ঘোষণা করার পর জাপানের আকাশসীমা ত্যাগ করে ঢাকার পথ ধরেছে। উড্ডয়ন বাতিলের খবরে মুহূর্তের মধ্যে দেশজুড়ে যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছিল, উড়োজাহাজটি নিরাপদে যাত্রা করায় তা কেটে গেছে।
জাপানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১০টা ৪৩ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৭টা ৪৩ মিনিট) উড়োজাহাজটি ঢাকার উদ্দেশে জাপানের টোকিও শহরের প্রধান আন্তর্জাতিক আকাশপথ নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। দেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনস সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করে এই তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানের নির্দিষ্ট বিজি-৩৭৭ ফ্লাইটটির নির্ধারিত উড্ডয়ন স্থগিত করতে বাধ্য হন দায়িত্বরত পাইলট। বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনূর আহমেদ বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, বিমানে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়ার পরপরই প্রকৌশলীরা অবিলম্বে তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেন এবং দ্রুততম সময়ে মেরামতের কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও প্রকৌশলী মান্নানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ কারিগরি দল সফলভাবে ফ্লাইটটির ত্রুটি পুরোপুরি সারিয়ে তুলতে সক্ষম হয়।
ঘটনার বর্ণনা থেকে জানা যায়, ভিভিআইপি যাত্রীদের নিয়ে বিজি-৩৭৭ ফ্লাইটটির নির্ধারিত সময়েই নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। সূচি মেনে বোর্ডিং পর্ব শেষ হওয়ার পর উড়োজাহাজটিকে নির্দিষ্ট টার্মিনাল থেকে পুশব্যাক করা হয়। তবে বিমানটি রানওয়ের দিকে যাত্রা শুরু করার মুহূর্তে ককপিটে 'স্পয়লার' সংক্রান্ত একটি প্রযুক্তিগত সতর্ক সংকেত বা সিগন্যাল ভেসে ওঠে। এমন উদ্ভূত সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে কোনো প্রকার ঝুঁকি না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিমান উড্ডয়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন ককপিটে থাকা অভিজ্ঞ পাইলট। এরপর আন্তর্জাতিক কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ করে উড়োজাহাজটিকে বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট ও সুরক্ষিত পার্কিং এলাকায় ফিরিয়ে আনা হয়।
উল্লেখ্য, চার দিনের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফরে গত ২৬ অক্টোবর জাপান যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। তা ছাড়া তিনি জাপানের বিভিন্ন বহুজাতিক ও বেসরকারি কোম্পানি এবং বিখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি পৃথক বৈঠকে যোগ দেন।
উচ্চপর্যায়ের এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা উত্তরোত্তর জোরদার করা এবং বাংলাদেশে নতুন করে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়। সফর শেষ করার পূর্বে প্রধানমন্ত্রী জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যও প্রদান করেন।