ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:৩৬ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাড়িতে অ্যালকোহল তৈরির চেষ্টা চালিয়ে এক ভয়াবহ মর্মান্তিক পরিণতির জন্ম দিয়েছে ভারতের এক যুবক। উন্মুক্ত প্রযুক্তির অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভর করে বেআইনিভাবে বিষাক্ত মদ তৈরি করে বাজারজাত করার ফলে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় অন্তত ১৩ জন নিরীহ মানুষের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে এমন প্রাণঘাতী কর্মকাণ্ডের তথ্যে পুরো দেশজুড়ে চরম তোলপাড় ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।


পুলিশ ও স্থানীয় তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, দেওয়াস জেলার চান্দানা ও বিনজানা গ্রামে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে একাধিক রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অনভিজ্ঞ হাতে এআই প্রযুক্তির অসম্পূর্ণ নির্দেশিকা অনুসরণ করে তৈরি করা বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করেই এই প্রাণহানি ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যেই অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তসহ মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে প্রস্তুতকৃত এই নকল বিষাক্ত মদের সঙ্গেই মৃত্যুর ঘটনাগুলোর সরাসরি যোগসূত্র কতখানি, তা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে রাসায়নিক উপাদানগুলোর ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।


মামলার প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার মূল অভিযুক্ত অজয় রাঠোর নামের এক ব্যক্তি গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে অক্টোবর মাসের শুরু পর্যন্ত বারবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন চ্যাটবট ও সার্চ মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ প্রস্তুত করার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে জানতে চান। তবে এআই মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত আংশিক ও অসম্পূর্ণ তথ্যে সন্তুষ্ট না হয়ে তিনি পরবর্তীতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থের বেআইনি সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন।


তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, ইন্টারনেট সার্চের মাধ্যমে অজয় ইন্দোরের ‘রাইজিং ব্রাদার্স’ নামের একটি রাসায়নিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পান। সেখান থেকে তিনি প্রয়োজনীয় একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক রাসায়নিক সংগ্রহ করেন এবং তা ব্যবহার করে নিজ উদ্যোগে বেআইনি মদ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন। ওই রাসায়নিক সরবরাহের অভিযোগে পরবর্তীতে ইন্দোরের বাসিন্দা আমন কাসলিওয়ালকেও পুলিশ গ্রেফতার করে। যে গুদাম থেকে বিতর্কিত এই রাসায়নিক সংগৃহীত হয়েছিল, পুলিশ সেটি সিলগালা করে দিয়েছে।


পুলিশের তদন্তে আরও উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত ১ অক্টোবর রাসায়নিক হাতে পাওয়ার পর অজয় ও তার সঙ্গীরা বেআইনিভাবে নকল মদ তৈরি শুরু করে। এরপর পরিবেশ থেকে কুড়িয়ে আনা ফেলে দেওয়া এবং পুরনো নামীদামী মদের বোতলে সেই বিষাক্ত তরল ভরে বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এমনকি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আসল মদের সঙ্গে অতি সূক্ষ্মভাবে নকল মদ মিশিয়ে বিক্রি করা হতো, যা দেখে সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে আসল-নকল চেনা প্রায় অসম্ভব ছিল।


শুরুতে দেওয়াস জেলা প্রশাসন চান্দানা গ্রামের মৃত্যুর ঘটনাগুলোর সঙ্গে বেআইনি মদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও পুলিশের ধারাবাহিক ও নিখুঁত তদন্তে এই মারাত্মক মদের কারবারের আসল রহস্য উন্মোচিত হয়। ফরেন্সিক পরীক্ষাগারে পাঠানো বিষাক্ত মদের নমুনার রাসায়নিক বিশ্লেষণ শেষ হলেই এই ঘটনার পেছনে দায়ী নির্দিষ্ট উপাদানের ধরণ স্পষ্টভাবে জানা যাবে। প্রযুক্তির চরম অপব্যবহারের এমন ভয়াবহ দৃষ্টান্ত বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা ও সঠিক ব্যবহারে নতুন নজরদারির তাগিদ দিচ্ছে।


সূত্র: দ্য ওয়াল


এ সম্পর্কিত আরো খবর