ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ

জেআইসিতে গুম-নির্যাতন: ৭ সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ, ৩১ আগস্ট পরবর্তী শুনানি


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৫:০০ পিএম

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।


বুধবার (১৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।


এদিন মামলার সপ্তম সাক্ষী হিসেবে গুমের শিকার নুরে আলমের জবানবন্দি ও জেরা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। গ্রেপ্তার তিন আসামির পক্ষে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু এবং শেখ হাসিনার পক্ষে স্টেট ডিফেন্সের আইনজীবী মো. আমির হোসেন, এম হাসান ইমাম ও সুজাত মিয়া তাকে জেরা করেন।


সাক্ষ্য ও জেরা কার্যক্রম শেষে ট্রাইব্যুনাল নতুন সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৩১ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলাম, জহিরুল আমিনসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।


এর আগে ১২ আগস্ট নুরে আলম ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন। পরে ১৮ আগস্ট তার অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল নীলফামারীতে নিজ বাসা থেকে তাকে গুম করা হয়েছিল।


নুরে আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, তাকে জেআইসি-টিএফআই সেলে প্রায় আট মাস আটক রাখা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি ওই সময়ের অভিজ্ঞতা ও গুম অবস্থায় থাকার বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন।


মামলার ১৩ আসামির মধ্যে বর্তমানে তিনজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।


অন্যদিকে মামলার ১০ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন সময়ে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।


এ মামলার অপর পলাতক আসামিরা হলেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর ১৩ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগ আমলে নেন। পরবর্তী সময়ে ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটির বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।


সাক্ষীদের ধারাবাহিক জবানবন্দি ও জেরা শেষে এখন পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিকে এগোচ্ছে মামলাটি। আগামী ৩১ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর