ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর বিএনপিতে বড় সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রস্তুতি


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৮:০৩ পিএম

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে বইছে নতুন হাওয়া। এ নির্বাচনের পরপরই বিএনপির দলীয় প্রশাসনিক কাঠামো, মন্ত্রিসভার বিন্যাস এবং সংসদীয় রাজনীতিতে আসতে পারে বড় ধরনের পরিবর্তন। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করায় তাঁর ছেড়ে দেওয়া দলীয় ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে ইতোমধ্যে বিএনপি এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে জোর আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।


দলীয় সূত্রগুলো দাবি করছে, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর পরই বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দৃশ্যমান রূপ নিতে পারে। ঠিক একই সময়ে মন্ত্রিসভায় সীমিত পরিসরে রদবদল এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নতুন করে পুনর্বণ্টনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব কৌশলগত রদবদল ও পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপি চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরই এককভাবে নির্ভর করছে।


মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী মহাসচিব পদটি শূন্য হবে। তাৎক্ষণিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে দলের ভেতরের একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে সদ্য জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া রুহুল কবির রিজভীর নাম।


বিএনপির একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, মূল দলীয় কার্যালয় পরিচালনা, দেশব্যাপী রাজনৈতিক কর্মসূচি সমন্বয় ও গণমাধ্যমের সঙ্গে দলীয় যোগাযোগ রক্ষায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবেও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হলে দলের সার্বিক সাংগঠনিক কর্মসূচিতে বড় ধরনের কোনো ছন্দপতন ঘটবে না বলেই মনে করছেন দলের দায়িত্বশীল অংশের নেতারা।


তবে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে কে মহাসচিব পদে আসীন হবেন—সেই প্রশ্নে আলোচনার পরিধি অনেক দূর বিস্তৃত। এ ক্ষেত্রে দলের স্থায়ী কমিটির অভিজ্ঞ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও ড. এজেডএম জাহিদ হোসেনের নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় রয়েছে। দলীয় সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পর নির্ধারিত আগামী কাউন্সিলে মহাসচিব পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। রিজভীকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের কাজ করার জন্য নতুন করে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করেছেন। এজন্য তিনি চেয়ারম্যানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের ও দলের কল্যাণে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।


মহাসচিব পদে রদবদলের আলোচনার পাশাপাশি বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদেও নতুন মুখের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। বর্তমানে পদে থাকা নেতাদের মধ্যে হাবিব উন নবী খান সোহেল ও আব্দুস সালাম আজাদের নাম এ পদের জন্য আলোচনায় এগিয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে দলের দপ্তর সম্পাদক পদেও নতুন মুখ আনার প্রক্রিয়া চলছে। এই সংবেদনশীল পদে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, মুনির হোসেন, আবদুল লতিফ জনি এবং এবিএম মোশাররফ হোসেনের নাম বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে।



রাজনীতি ও প্রশাসনের সবচেয়ে বড় গুঞ্জন চলছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে ঘিরে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাঁর হাতে থাকা এ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ দায়িত্বেও পরিবর্তন অবধারিত। সরকারের উচ্চপদস্থ দু’জন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন নিশ্চিতভাবেই আসছে। একই সঙ্গে সরকারের বিগত ছয় মাসের সার্বিক কাজ মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রেশফলিং বা পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক শপথগ্রহণের আগে বড় আকারের মন্ত্রিসভা রদবদলের সম্ভাবনা কিছুটা কম।


দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের জন্য বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা এই অভিজ্ঞ নেতাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর করা হলে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন কোনো জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার সমীকরণ সামনে আসবে। সে ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নাম ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। পাশাপাশি ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুলের নামও এই পদের আলোচনায় রয়েছে।


মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য এ রদবদলের ধাক্কা শুধু স্থানীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পররাষ্ট্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের নামও তালিকায় রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষাবিদ ও নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নাম জোরালো আলোচনায় রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বে উন্নীত করার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। এছাড়া সরকারের প্রশাসনিক ও নীতি নির্ধারণী দায়িত্বে আসতে পারেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, শামসুজ্জামান দুদুসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের নামও নতুন মন্ত্রী হিসেবে জোর গুঞ্জনে রয়েছে।


দীর্ঘদিন রাজপথে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে পাশে থাকা মিত্র ও শরিক দলগুলোর শীর্ষ কয়েকজন নেতাকেও নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর চর্চা চলছে যে, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন। উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মিত্র ও শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় শরিকদের সরাসরি সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়, যার ধারাবাহিকতায় মন্ত্রিসভায় মিত্রদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হবে। ফলে সেখানকার উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চললেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর পাশাপাশি জাতীয় সংসদে নতুন 'সংসদ উপনেতা' কে হচ্ছেন, তা পরবর্তী অধিবেশনে রূপ পেতে পারে। এই সম্মানজনক পদের জন্য দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও সালাহউদ্দিন আহমদের নাম সামনে এসেছে।


সার্বিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, দলীয় পুনর্গঠন বা সরকারি মন্ত্রিসভায় রদবদল একটি স্বাভাবিক রুটিন প্রক্রিয়া। রাষ্ট্র ও দলের স্বার্থে প্রয়োজনের তাগিদেই এটি করা হয়। সরকারপ্রধান ও দলীয় প্রধান প্রয়োজন মনে করলে যথা সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এবং সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কর্মদক্ষতার সঠিক মূল্যায়নও বিবেচনায় রাখা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর