পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডোর বা 'চিকেনস নেক' এলাকাটি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি অঞ্চল। মূল ভারতীয় ভূখণ্ডের সঙ্গে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর যোগাযোগের প্রধানতম সেতু হিসেবে কাজ করে এই সরু করিডোরটি। শুক্রবার শিলিগুড়িতে এসে স্পর্শকাতর এই করিডোরের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
শিলিগুড়ি করিডোর সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের প্রশাসনিক ও সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে ঘোষণা করেন অমিত শাহ। কেবল সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাই নয়, বরং প্রশাসনিক পরিকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে ভারতের রাজধানী দিল্লির সঙ্গে দ্রুত রেল যোগাযোগ নিশ্চিতকরণসহ শিলিগুড়িকে ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
অপরিদিকে, শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রায় ১৮৯ কোটি ভারতীয় রুপি ব্যয়ে একাধিক নতুন প্রশাসনিক ও আবাসিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য রাজু বিস্তা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য প্রদানকালে অমিত শাহ জানান, শিলিগুড়ি করিডোর ও সমগ্র দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ গড়ে তোলা হয়েছে। চোপড়া, কিষাণগঞ্জ ও ধুবড়ি—এই তিনটি প্রধান ঘাঁটি থেকে সমগ্র করিডোরে সার্বক্ষণিক নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত ‘তিস্তা প্রহারের’ মতো যৌথ সামরিক অনুশীলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিলিগুড়ি করিডোরকে কৌশলগতভাবে শক্তিশালী করতে দীর্ঘদিন ধরে দেশটির কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর প্রায় ৫৬০ একর জমির বিশেষ প্রয়োজন ছিল। বেআইনি অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া অত্যন্ত জরুরি হলেও বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময় জমি সংক্রান্ত সমস্যা মেটানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ করার পর জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্য সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ ও এসএসবির জমিজট কাটিয়ে ১১২৯ একর জমি হস্তান্তর করেন। এমনকি বাকি থাকা ২৯ একর জমির অনুমোদনও দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি অঞ্চলের যাতায়াত, পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক বিকাশকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২.০’-এর আওতায় ৬৮৩৯ কোটি রুপির প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোকে কেবল সড়কপথেই নয়, বরং মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি স্টেশনকে বিশ্বমানের রেল স্টেশনে রূপান্তর করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে ঘোষিত দিল্লি-শিলিগুড়ি হাই-স্পিড রেল করিডোর চালু হলে আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে দিল্লি থেকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে শিলিগুড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে।