তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক ‘মক্কা জোট’ গঠনের পর এবার ইউরোপের শক্তিশালী দেশ ফ্রান্সের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থিত দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারি বাসভবন ও দপ্তর এলিসি প্রাসাদে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়।
সৌদি আরবের পক্ষে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং ফ্রান্সের পক্ষে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ভৌত্রিন নিজ নিজ দেশের হয়ে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং সৌদির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান স্বয়ং উপস্থিত থেকে চুক্তিটিকে অনুমোদন জানান।
স্বাক্ষরিত নতুন এই কৌশলগত চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তি, সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা শিল্প এবং দুই দেশের সার্বিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা। এর পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উন্নত সামরিক প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক সামরিক শিক্ষায় দুই দেশের মধ্যে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময় প্রক্রিয়া আরও সহজতর ও কার্যকর করা।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৭ আগস্ট দক্ষিণ এশীয় পরাশক্তি পাকিস্তান এবং ইউরোপ-এশিয়ার মেলবন্ধন তুরস্কের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব। তিন দেশের মধ্যাকারের এই গুরুত্বপূর্ণ জোটের মূল চুক্তিটি পবিত্র মক্কা নগরীতে স্বাক্ষরিত হয়েছিল বলে বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমে এটি দ্রুত ‘মক্কা জোট’ নামে পরিচিতি ও ব্যাপক আলোচনা লাভ করে। এই ত্রিপাক্ষিক জোটে সৌদি আরবের বিপুল অর্থায়ন ও অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্কের অত্যন্ত উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও অত্যাধুনিক ড্রোন এবং পাকিস্তানের পেশাদার সামরিক জনবল ও পারমাণবিক সক্ষমতাকে জোটের প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মক্কা জোট আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় এবার ইউরোপীয় পরাশক্তি ফ্রান্সের সঙ্গে নতুন এই প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করল রিয়াদ। মঙ্গলবার চুক্তি সম্পাদনের পর সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “এই চুক্তিটি মূলত সৌদি আরব ও ফ্রান্সের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান বহুমুখী সহযোগিতার একটি নতুন ও সম্প্রসারিত রূপ। সেই সঙ্গে চুক্তিটি দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রগুলোতে যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ ও উচ্চতর বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময়ের প্রতি উভয় রাষ্ট্রের গভীর অঙ্গীকারকে স্পষ্ট প্রতিফলিত করে। যা ভবিষ্যতে উভয় দেশের জাতীয় সক্ষমতা বহুগুণ শক্তিশালী করতে এবং অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ পূরণে সরাসরি সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখবে।”
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ‘সৌদি গেজেট’ ও ‘আনাদোলু এজেন্সি’র তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূ-রাজনীতিতে সৌদি আরব তাদের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুসংহত করল।