ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু বিকেলে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হতে যাচ্ছে। সংসদ কার্য পরিচালনা ও আইন প্রণয়নের অংশ হিসেবে এ অধিবেশনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বুধবার (২৬ আগস্ট) গণমাধ্যমকে জানান, এই অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠন এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপনকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যদের নাম পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত রূপ পাবে। তিনি আরও জানান, অধিবেশনটি প্রাথমিকভাবে ৫, ৭ অথবা ১০ কার্যদিবসের জন্য পরিকল্পিত হলেও সংসদীয় প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে এর মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এই অধিবেশন চলাকালে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। উত্থাপিত হতে যাওয়া বিলগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার সুরক্ষাসংক্রান্ত বিল অন্যতম।
বিশেষ করে প্রস্তাবিত সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে একটি নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বিধান অনুযায়ী, বাবা-মা জীবিত থাকা অবস্থায় সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও সেই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার বাবা-মায়ের কাছেই সংরক্ষিত থাকবে, যা সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধে বড় ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া ‘জুলাই সনদের’ ধারাবাহিকতায় বহুল আলোচিত সংবিধান সংশোধনের বিষয়টিও এ অধিবেশনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি ১৭ সদস্যবিশিষ্ট বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবিত এই কমিটিতে বিএনপি থেকে সাতজন, জামায়াতে ইসলামী থেকে পাঁচজন এবং বাকি আসনগুলোতে অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিরোধী দল থেকে নাম পাওয়ার সাথে সাথেই তাদের প্রতিনিধিদের এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অধিবেশন শুরুকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে। সংসদ এলাকার শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সংলগ্ন স্থানে যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা বিক্ষোভ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।