বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষ করে প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। এ সময় তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ই-রিকশা বা ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য প্রস্তাবিত নতুন নীতিমালাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকারের সকল ধাপের নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে। সরকার চায় দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন তাদের ভোটাধিকার অবাধে প্রয়োগ করতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে নির্বাচনের নির্দিষ্ট তফসিল ঘোষণা করা মাত্রই সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ, প্রশাসনিক সহায়তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে সরকার বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিরোধী দলের লংমার্চের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেকোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর যেকোনো গঠনমূলক ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা বজায় থাকবে। তবে এ সময় তিনি বিরোধী দলের নেতৃদ্বয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানাবিধ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সরকার জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাই এ স্পর্শকাতর ইস্যুকে ঘিরে জনমনে ক্ষোভ বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি বিরোধীদের প্রতি অনুরোধ জানান।
সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে দেশের শহর ও উপশহরে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ই-রিকশা বা ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া, নির্ধারিত ফি ধার্য, লাইসেন্স নবায়ন এবং চলাচলের সার্বিক নীতিমালা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী আট থেকে দশ দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত বিধিমালা চূড়ান্ত করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি নীতিমালার প্রয়োগিক দিক ব্যাখা করে বলেন, প্রস্তুতকৃত নতুন বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভাগুলো তাদের নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় ই-রিকশার সার্বিক নিবন্ধন বা লাইসেন্স প্রদান করবে। তবে নিবন্ধন পেলেই সব সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না। কোন কোন নির্দিষ্ট সড়ক ও গলিতে এসব বাহন চলাচল করবে এবং কোন প্রধান প্রধান সড়কে এগুলোর প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে—তা স্থানীয় ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রতিটি জেলার স্থানীয় জেলা প্রশাসন এবং ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ যৌথভাবে বৈঠক করে সড়কভিত্তিক এই চলাচলের সীমা নির্ধারণ করবে। এর ফলে একদিকে যেমন শহরের যানজট অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে, অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে।