ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের

ই-রিকশার নিবন্ধন দেবে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা: মীর শাহে আলম


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৩:৫৭ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও সাবেক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বের শুরুতে তিনি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রতিমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তির জন্য বিশেষ দোয়া এবং মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় দলীয় বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তার সাথে উপস্থিত ছিলেন।


মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব ও মোনাজাত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত দেশীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি ও স্পষ্ট উত্তর দেন। এ সময় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঘোষিত লংমার্চসহ অন্যান্য কর্মসূচি এবং সম্প্রতি বহুল আলোচিত ই-রিকশা বা ব্যাটারিচালিত রিকশার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নীতিমালার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিগত সিদ্ধান্ত জানতে চাওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।


আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সরকারের কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্থানীয় সরকার কাঠামোর প্রতিটি স্তরের নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও নজরদারি থাকবে। সরকার চায় দেশের সাধারণ জনগণ যেন কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা বাধা ছাড়া তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন কমিশন তাদের অভ্যন্তরীণ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে যখনই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করবে, তখনই বর্তমান সরকার তাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের আর্থিক বরাদ্দ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত সহায়তা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে সব পক্ষ সমান সুযোগ পাবে।


রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধী দলের কর্মসূচি ও প্রস্তাবিত লংমার্চ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী সরকারের গণতান্ত্রিক সহনশীলতার কথা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় যেকোনো রাজনৈতিক দলের অধিকার রয়েছে নিজেদের দাবি তুলে ধরে কর্মসূচি পালন করার। বিরোধী দলগুলোর যেকোনো গঠনমূলক, গণতান্ত্রিক ও সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু একই সাথে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।


বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বিরোধী দলের নেতৃদ্বয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি বাজারের সংকট একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এই সংকটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে কিংবা ভিত্তিহীন আন্দোলনের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অতএব, জাতীয় স্বার্থে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি বা জনমনে অযথা আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।


সংবাদ সম্মেলনের শেষ অংশে দেশের নগর ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট প্রদান করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি স্বীকার করেন যে, ই-রিকশা একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে সঠিক নীতিমালার অভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, ই-রিকশার সার্বিক ব্যবস্থাপনা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া, ফি নির্ধারণ, বার্ষিক নবায়ন এবং নির্দিষ্ট গতিসীমা ও চলাচলসংক্রান্ত একটি যুগোপযোগী বিধিমালা বা নীতিমালা তৈরির কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।


প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী আট থেকে দশ দিনের মধ্যেই এই বহুল প্রতীক্ষিত ই-রিকশা নীতিমালা চূড়ান্ত রূপ পাবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় গেজেট আকারে জারি করা সম্ভব হবে। নীতিমালার মূল কাঠামোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, নতুন তৈরি হতে যাওয়া বিধিমালা অনুসারে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভাগুলোকে ই-রিকশার অফিশিয়াল নিবন্ধন বা লাইসেন্স প্রদানের প্রাথমিক দায়িত্ব দেওয়া হবে।


তবে কেবল লাইসেন্স পেলেই যেন যেখানে-সেখানে বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে ই-রিকশা চলাচল করতে না পারে, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, কোনো একটি নির্দিষ্ট শহর বা এলাকার কোন কোন প্রধান বা শাখা সড়কে এসব ই-রিকশা চলাচলের অনুমতি পাবে, আর কোন কোন ব্যস্ত ও মহাসড়কে এদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে—তা স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রতিটি জেলার স্থানীয় জেলা প্রশাসন এবং ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে পর্যালোচনা বৈঠক করবে। তারা সড়কভিত্তিক বাস্তবতা মূল্যায়ন করে ই-রিকশার চলাচলের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা ও ট্রাফিক রুট নির্ধারণ করবে। প্রতিমন্ত্রীর মতে, স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগের এই সুনির্দিষ্ট সমন্বয়ের ফলে একদিকে যেমন শহরের যানজট বহুলাংশে কমবে, অন্যদিকে সাধারণ পথচারীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে আসবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর