ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

গুমের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড রেখে সংসদে নতুন বিল উত্থাপিত


  • আপলোড সময় : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১০:১৭ এএম

অনলাইন রিপোর্টার

গুমের শিকার ব্যক্তিকে হত্যা করা হলে, মরদেহ পাওয়া গেলে কিংবা পাঁচ বছর পার হওয়ার পরও সন্ধান না মিললে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’। প্রস্তাবিত আইনে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তল্লাশি পরোয়ানা জারি, সত্য জানার অধিকার, কমান্ড রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায় এবং তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে বিলে কঠোর শাস্তির প্রস্তাব থাকলেও এর তদন্ত কাঠামোর স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

 

আইনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, গুমের অভিযোগে অভিযুক্ত শৃঙ্খলা-বাহিনী নিজ ঘটনার তদন্ত করতে পারবে না; সরকার অন্য কোনো বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলকে এই দায়িত্ব দিতে পারবে। কিন্তু মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এক বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্য বাহিনীকে দিয়ে তদন্ত করানো কখনোই 'স্বাধীন তদন্ত' হতে পারে না। তাদের মতে, একটি স্বাধীন ও স্থায়ী 'গুম তদন্ত কর্তৃপক্ষ' বা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিজস্ব তদন্ত ব্যবস্থাকে ক্ষমতা না দিলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রভাব মুক্ত থেকে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন সম্ভব নয়। কারণ অতীতের অনেক ঘটনায় একাধিক বাহিনীর যৌথ ভূমিকা বা ধাপে ধাপে বিভিন্ন দলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়াটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী দিবসকে সামনে রেখে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে বাংলাদেশকে যুক্ত করার পর দেশে নিজস্ব আইন প্রণয়ন ইতিবাচক হলেও তদন্ত প্রক্রিয়াকে স্বার্থের সংঘাতমুক্ত রাখা জরুরি। জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাবিলা ইদ্রিস প্রশ্ন তোলেন, সাদা পোশাকে কাউকে তুলে নেওয়া হলে শুরুতেই কোন বাহিনী জড়িত তা চিহ্নিত করা কঠিন। এছাড়া গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান লিটন জানান, জটিল এ অপরাধের তদন্তে বাহিনীর কমান্ড কাঠামোর বাইরে গিয়ে সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা জেনারেলদের তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতা তদন্তকারী সংস্থাকে দিতে হবে, যা সাধারণ পুলিশি তদন্তে সম্ভব নয়।

 

মানবাধিকার সংগঠনগুলো সম্প্রতি মোংলায় জেলে মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে নতুন আইনের কার্যকারিতার জন্য একটি বড় পরীক্ষা বা 'অ্যাকাউন্টেবিলিটি টেস্ট' হিসেবে দেখছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) উল্লেখ করেছে, শুধুমাত্র অপরাধ ঘোষণা বা সাজার মেয়াদ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; আটকের মুহূর্ত থেকে ডিজিটাল কাস্টডি রেজিস্টার, আটককেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন ও স্বতন্ত্র তদন্ত সংস্থা গঠন নিশ্চিত করতে হবে। তারা গুমের স্থায়ী আইনটি চূড়ান্ত করার পূর্বে ভুক্তভোগী পরিবার, আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত অর্ন্তভুক্ত করার তাগিদ দেন।

 

বিলে গুমের কারণে মৃত্যু হলে মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও সাধারণ গুমের অপরাধে ৩ থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের আর্থিক কষ্ট লাঘবে তাদের উত্তরাধিকার সম্পত্তি থেকে প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো এবং পাঁচ বছর পার হলে 'গুম সনদ' দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তদন্তের জন্য সর্বোচ্চ ১২০ দিন সময় বাঁধাই করা হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এক বিবৃতিতে অতীতের ১ হাজার ৫৬৯টি গুমের নিরপেক্ষ তদন্ত, নিখোঁজদের অবস্থান প্রকাশ ও ভবিষ্যতে গুমের সংস্কৃতি বন্ধে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। গুমবিরোধী কনভেনশনের ‘ভিকটিমস ফার্স্ট, অ্যাকশনস নাউ’ প্রতিপাদ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন তদন্ত কাঠামো গঠনকেই মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিশ্লেষকরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর