আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ফুটে উঠেছে। সাম্প্রতিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা ইতোমধ্যেই ৯৫০ ছাড়িয়ে গেছে এবং এখনও প্রায় চার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যেই নেপালের নুয়াকোট জেলার বিদুর পৌরসভার দেবীঘাট এলাকায় একটি কাদা-নিমজ্জিত বাড়ি থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বাড়িটির মাটির নিচে আরও মরদেহ চাপা পড়ে থাকার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদুর এলাকার ওই একক বাড়ি থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় পুলিশ সুপার বিপিন রেগমি। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাস্থলে মাটির নিচে আরও অনেক মরদেহ আটকে থাকতে পারে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ওই এলাকায় পুরোদমে পুনরায় উদ্ধার অভিযান চালানো হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
বেত্রাবতী পৌরসভার কর্মকর্তা মঙ্গল তামাং জানান, অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কাদামাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহগুলোর মধ্যে একটি শিশুর মরদেহ শনাক্ত করা গেছে এবং বাকি সবকটিই প্রাপ্তবয়স্কদের। উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর মধ্যে অন্তত ছয়টি হেলিকপ্টারে করে জরুরি ভিত্তিতে রাজধানী কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো আপাতত স্থানীয় শহরে রাখা হলেও পর্যায়ক্রমে সেগুলোও নেপালের রাজধানীতে স্থানান্তর করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ওই নির্দিষ্ট বাড়িসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে নতুন করে ফের অনুসন্ধান অভিযান চালানো হবে।
অন্যদিকে, এই দুর্যোগের ভয়াবহতায় নেপাল ও চীনে সম্মিলিত মৃতের সংখ্যা ৯৫০ অতিক্রম করেছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শুধুমাত্র নেপালি ভূখণ্ডেই এই ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৯৩৯ জন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, তিব্বত অংশে এই বন্যায় অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানি নিশ্চিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, দুর্যোগের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে এনডিআরআরএমএ-এর হিসেব মতে নেপালে এখনও ৩ হাজার ৯২৫ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির তথ্যানুযায়ী চীনেও অন্তত ৫৪৬ জন মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
রাজধানী কাঠমান্ডু ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে সিএনএনের সাংবাদিক অ্যান্ডারসন কুপার সেখানকার পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে গত সপ্তাহের বন্যার ঘোলাটে পানিকে ‘অনেকটা ঘন ও তরল সিমেন্টের মতো’ বলে অভিহিত করেছেন, যা সমস্ত বাড়িঘর ও জনপদ মুহূর্তেই গ্রাস করে নেয়।