অনলাইন রিপোর্টার
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আনা দুর্নীতির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। একই সাথে তার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অভিযোগ তোলায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুদককে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অন্যথায় সংস্থাটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে চরম হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন তিনি।
গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ অভিযোগের বিশদ ব্যাখায় বলেন, ১৫০ জন কর্মকর্তাকে অনিয়ম করে পদোন্নতি দিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকার দুর্নীতির যে অভিযোগ দুদক তার বিরুদ্ধে উত্থাপন করেছে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। মূলত সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও প্রবিধানের ভিত্তিতেই মোট ১৮২টি পদে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছিল। এখানে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ ছিল না।
এ ছাড়া ৩৮ জন কর্মকর্তার পদ বাতিল সংক্রান্ত অপর অভিযোগে ৭৬ লাখ টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির যে তথ্য দুদক সামনে এনেছে, তা খণ্ডন করে তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন যে, পদ বাতিলের সিদ্ধান্তটি কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় নয়, বরং মহামান্য আদালতের সুনির্দিষ্ট আদেশ ও রায়ের ভিত্তিতেই বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। আইন ও আদালতের নির্দেশ মেনে নেওয়া পদক্ষেপকে ভিত্তিহীনভাবে দুর্নীতি হিসেবে আখ্যায়িত করা অনভিপ্রেত।
দুদকের সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনের তীব্র সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, সংস্থার মুখপাত্র যেভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বানোয়াট অভিযোগ এনেছেন, তাতে তার চরম রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মানহানি ঘটেছে। এই ভিত্তিহীন বক্তব্যের মাধ্যমে জনমনে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তাই আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুদক তাদের এই ভুল স্বীকার করে ক্ষমা না চাইলে তিনি সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বিরোধীদের কণ্ঠরোধ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে সরকার ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিরোধী দল ও ভিন্নমত দমনের ক্ষেত্রে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের পুরনো ও নিপীড়নমূলক পদ্ধতি থেকে বর্তমান সরকারকে অবিলম্বে বেরিয়ে আসতে হবে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সকল রাজনৈতিক দল ও নেতার ওপর অসত্য অভিযোগ এনে হয়রানি বন্ধ করার জন্য তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।