ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

কম খরচে নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স

বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে নেপালিদের রাজত্ব


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১:১০ পিএম

ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মরশুমের পর্দা উঠতে যাচ্ছে খুব শীঘ্রই। ফুটবলারদের সাম্প্রতিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের ফুটবল ক্লাবগুলোতে দক্ষিণ এশীয় ফুটবল সংস্থার (সাফ) অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর ফুটবলারদের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে হিমালয়কন্যা নেপালের ফুটবলারদের প্রতি বাড়তি আগ্রহ দেখিয়েছে সিংহভাগ ক্লাব। বিদেশি এবং সাফ কোটা মিলিয়ে এবার মোট ৬৫ জন ভিনদেশি ফুটবলার নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে সাফ কোটার ১৯ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৪ জনই নেপালের নাগরিক।

 

গত মরশুম থেকে শুরু করে বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগে সার্কভুক্ত দেশের ফুটবলারদের স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য করার নিয়ম চালু হয়। প্রথমবার এই কোটায় সর্বোচ্চ ৫ জন নিবন্ধন করার সুযোগ থাকলেও, এবার স্থানীয় ফুটবলারদের দাবির মুখে সেই কোটা কমিয়ে ৩ জনে আনা হয়েছে। তবে কোটা কমলেও গতবারের তুলনায় এই অঞ্চল থেকে ফুটবলার আসার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মরশুমে সাফ কোটায় ১১ জন অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ৮ জন ছিলেন নেপালি।

 

চলতি মরশুমে দেশের শীর্ষ লিগে ক্লাবের সংখ্যা ১০টি থেকে বেড়ে ১৩টি হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ক্লাবই সাফ কোটার খেলোয়াড়দের স্কোয়াডে যুক্ত করেছে। গত মরশুমে এই কোটা ব্যবহার না করা লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস এবার সর্বোচ্চ তিনজন নেপালি ফুটবলারকে দলে ভিড়িয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন নেপাল জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড অঞ্জন বিস্তা, মানিশ দাঙ্গি এবং অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রহিত চাঁদ। অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব সাফ কোটা পুরোপুরি এড়িয়ে কেবল বিদেশি কোটায় মালির স্ট্রাইকার সুলেমান দিয়াবাতেসহ আফ্রিকার ফুটবলারদের ওপর আস্থা রেখেছে।

 

অন্যান্য ক্লাবের মধ্যে ফর্টিস ফুটবল ক্লাব, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, রহমতগঞ্জ ও চট্টগ্রাম সিটি ক্লাব দু’জন করে নেপালি ফুটবলার দলে নিয়েছে। এ ছাড়া ব্রাদার্স ইউনিয়ন, সিটি ক্লাব ও পিডব্লিউডিতে একজন করে নেপালি খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। পাকিস্তানের চারজন ফুটবলারের মধ্যে ব্রাদার্স ইউনিয়নে দু’জন এবং ঢাকা আবাহনী ও সিটি ক্লাবে একজন করে সুযোগ পেয়েছেন। শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের একমাত্র গোলকিপার সুজন পেরেইরা ফর্টিসে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্রাদার্স ইউনিয়ন ধরে রেখেছে জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে। তবে দলবদলের শেষ দিকে আবাহনী বড় চমক হিসেবে নাইজেরিয়ার হয়ে ২০১৪ বিশ্বকাপ খেলা মাইকেল বাবাতুন্দেকে সই করিয়েছে।

 

হঠাৎ নেপালি ফুটবলারদের এই বাড়তি চাহিদার পেছনের কারণ তুলে ধরে জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি জানান, অর্থনৈতিক সাশ্রয়ই এর মূল কারণ। ক্লাবগুলো তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত নেপালি খেলোয়াড়দের দলে নিতে পারছে। একই সাথে নেপালের ক্লাবগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের লিগে পারিশ্রমিক বেশি পাওয়ায় নেপালি ফুটবলাররাও এখানে খেলতে অধিক উন্মুখ থাকেন।

এবারের নিবন্ধনে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড ও জার্মানির ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তির মতো বেশ কিছু চমকপ্রদ নতুনত্বও দেখতে পাবেন ফুটবলপ্রেমীরা।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর