ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

সাত মাসেও এক টন এলপিজি আমদানি করতে পারেনি বিপিসি


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১:২৭ পিএম

দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে সরকারি উপস্থিতি বর্তমানে নগণ্যমাত্র দশমিক ৩৩ শতাংশ। বিশাল এই খাতের প্রায় পুরোটাই বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। ফলে বেসরকারি আমদানিকারকদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো এবং বাজারে সংকট দেখা দিলে কার্যকর সরকারি হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে গত জানুয়ারিতে সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তবে উদ্যোগ নেওয়ার পর টানা সাত মাস ধরে একাধিক চেষ্টা চালিয়েও এখন পর্যন্ত এক টন এলপিজিও আমদানি করতে পারেনি রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি।

 

গত সাত মাসে এলপিজি সরবরাহের জন্য বিপিসি পাঁচবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। তবে প্রতিবারই অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দাবি বা উপযুক্ত প্রস্তাবের অভাবে কোনো গ্রহণযোগ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেলেনি। যেমন, একটি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর চুক্তিমূল্যের সঙ্গে প্রতি টনে ২৭০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত প্রিমিয়াম দাবি করেছিল, যা অতিরিক্ত উচ্চ অলাভজনক বিবেচনায় বিপিসি প্রত্যাখ্যান করে। এরপর নিয়মিত দরপত্রের পথ থেকে সরে এসে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) হাজার টন এলপিজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

এই প্রক্রিয়ায় স্পিড মার্কেটিং করপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রতি টনে ৯৭ ডলার প্রিমিয়ামে এলপিজি সরবরাহের প্রস্তাব দিলে বিপিসির মূল্যায়ন কমিটি তা গ্রহণের সুপারিশ করে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয় ৩৬ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি প্রয়োজনীয় জামানত জমা দিলেও চুক্তিস্বাক্ষর ব্যাংক ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতা বাকি থাকায় আমদানিকৃত এলপিজি ঠিক কবে নাগাদ দেশে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নয় বিপিসি।

 

সরকারের দেওয়া অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী, বিপিসির আমদানিকৃত এই এলপিজি সরাসরি বাজারে বিক্রি না করে অনুমোদিত বেসরকারি অপারেটরদের দেওয়া হবে, যারা তা বোতলজাত করে বাজারজাত করবে। বিষয়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি আমিরুল হক জানান, উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক শর্ত সাপেক্ষে বেসরকারি অপারেটররা সরকার বিপিসিকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

 

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. মনজুর আলম প্রধান জানিয়েছেন, এলপিজি আমদানির প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যায়ে। খুব দ্রুতই প্রথম চালানের আমদানি শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে চট্টগ্রাম মোংলায় বিপিসির নিজস্ব এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই অবকাঠামো তৈরি হলে রাষ্ট্রীয় সঞ্চয় বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

 

২০১৫ সালে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ হওয়ার পর রান্নার মূল বিকল্প হিসেবে দেশে এলপিজির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যেখানে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা ছিল সাড়ে পাঁচ লাখ টন, বর্তমানে তা লাফিয়ে ১৫ থেকে ১৬ লাখ টনে পৌঁছেছে। কিন্তু এই চাহিদার প্রায় পুরো অংশই ১৫ থেকে ২০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আমদানি করে। সরকারি তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারিতে জ্বালানি তেল শোধনের উপজাত (বাই-প্রোডাক্ট) হিসেবে সামান্য পরিমাণ যে এলপিজি পাওয়া যায়, তা চাহিদার তুলনায় অতি নগণ্য।

 

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি কিংবা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশে প্রায়ই এলপিজির তীব্র সংকট তৈরি হয়। এমনকি বিগত সময়ে হাজার টাকার ১২ কেজির সিলিন্ডার হাজার টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যই মূলত সরকারি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

 

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম মনে করেন, বাজারে সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হলে কেবল নামকাওয়াস্তে একবার আমদানি করলেই চলবে না। বিপিসির অঙ্গপ্রতিষ্ঠানএলপি গ্যাস লিমিটেড’-এর প্রাতিষ্ঠানিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিপিসির নিজস্ব আমদানি, স্থায়ী সংরক্ষণ এবং বোতলজাতকরণের পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে বাজারে একটি টেকসই বিকল্প ব্যবস্থা সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর