দেশে হাম ও তার নানা উপসর্গ নিয়ে থামছেই না প্রাণহানির মিছিল। দিন যত যাচ্ছে, দেশের সার্বিক চিকিৎসাব্যবস্থায় আশঙ্কার পারদ তত বাড়িয়ে এই রোগে মৃতের সংখ্যা এখন এক হাজারের ঘরে পৌঁছাতে চলেছে। স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সংক্রামক এই ব্যাধির ভয়াবহতা ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হচ্ছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর সংশ্লিষ্ট উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরো চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই নতুন চারজনের প্রাণহানির মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯১ জনে, যা প্রায় ১ হাজার স্পর্শ করতে চলেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশদে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছর সারা দেশে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৮৯১ জন। সব মিলিয়ে দেশের হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে এই প্রাণঘাতী ব্যাধির কবলে পড়ে প্রাণহানির পরিসংখ্যান ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
অন্যদিকে কেবল মৃত্যুর সারণিই দীর্ঘ হচ্ছে না, বরং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ আক্রান্তও হচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, গত একদিনে অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে হাম ও এর সংশ্লিষ্ট উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন ৯১৭ জন। একই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ৮৪৩ জন।
সবশেষ এই পরিসংখ্যান যুক্ত হওয়ার পর চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ১০৫ জনে। বিশাল এই সংক্রমণ পরিসংখ্যান দেশের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের মধ্যে মারাত্মক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকরা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুত প্রতিষেধক ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার তাগিদ দিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নথিপত্র এবং উপাত্ত বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ২১৪ জন রোগী হামের মারাত্মক উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, সঠিক এবং সময়োচিত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পর তাদের মধ্য থেকে সিংহভাগ রোগীই সুস্থ হয়ে উঠছেন। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২১ জন রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিভৃত বাসস্থানে বা নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।