ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

নড়াইলে শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলায় শিক্ষকের যাবজ্জীবন


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৬:১৫ পিএম

নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইল সদর উপজেলার একটি মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় মেরাজ আলী (২৪) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।


দণ্ডপ্রাপ্ত মেরাজ আলী চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানার কালিয়া বাকরী এলাকার আমানুল্লাহ হকের ছেলে। ঘটনার সময় তিনি নড়াইল সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার জামিয়া রহমানিয়া তাইছিরুল উলুম মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা ১০ বছর বয়সী শিশুটির সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর এলাকার জামিয়া রহমানিয়া তাইছিরুল উলুম মাদরাসায় গত বছরের ১০ ও ১১ জুলাই রাতে শিশুটিকে আসামি মেরাজ আলী তার নিজ কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।


পরে শিশুটি তার মাকে বিষয়টি জানায়। মায়ের কাছে শিশুটি অভিযোগ করে, প্রায় দুই মাস ধরে ওই শিক্ষক তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। শিশুটির কাছ থেকে ঘটনা জানার পর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে মেরাজ আলী সেখান থেকে পালিয়ে যান।


পরে ১২ জুলাই স্থানীয় লোকজন মেরাজ আলীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার অন্যান্য কার্যক্রম শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।


রায় ঘোষণার সময় আদালত আসামি মেরাজ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন। মামলার রায়ে শিশুটির প্রতি সংঘটিত অপরাধের জন্য আসামিকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।


নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আজিবুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির মায়ের দায়ের করা মামলায় আদালত মেরাজ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।


এদিকে শিশু শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন গুরুতর অপরাধের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হয়েছে।


মামলার অভিযোগ ও আদালতের রায় অনুযায়ী, মাদ্রাসায় শিক্ষকতার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় শিশুটিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে বিষয়টি গোপন রাখতে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে মেরাজ আলীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।


শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীলতা ও নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও এ ধরনের ঘটনা সামনে নিয়ে আসে। পাশাপাশি শিশুদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার গুরুত্ব রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর