আন্তর্জাতিক ডেস্ক
টানা বেশ কিছু দিন ধরে চলে আসা তীব্র সংঘাতের পর এবার বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের হাত থেকে রাজধানী সানা পুনরুদ্ধার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। গত সোমবার ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল সামির আল-সাবরি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। ইয়েমেনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল ইয়েমেন টিভিতে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি নিশ্চিত করেন যে, সানা পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই বেশ কিছু বড় চমক দেখা যাবে।
একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সমমান তথ্য প্রকাশ করেছেন ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মাজিদ আল নুজাইলি। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী হুথিদের কবল থেকে পুরো ইয়েমেনকে মুক্ত করা এবং সানাকে সকল ইয়েমেনবাসীর জন্য একক রাজধানী হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সরকারের প্রধান ও সুস্পষ্ট লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পূরণে তিনি দেশের সব স্তরের নাগরিককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন যে, এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রতিশোধ বা বৈষম্যের স্থান থাকবে না এবং সব নাগরিকই হবে ভবিষ্যতের সমান অংশীদার।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০১৫ সালে ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় গ্রহণ করলে ইয়েমেনি ও সৌদি যৌথ বাহিনী আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্প্রতিষ্ঠায় সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড হুথিদের এবং বাকি অংশ সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের অধীনে রয়েছে।
দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০২২ সাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে এক ধরণের অঘোষিত যুদ্ধবিরতি বজায় ছিল। তবে ২০২৩ সালের শেষে গাজা সংঘাত শুরুর পর হুথিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জটিল পরিস্থিতির কারণে ইরান থেকে আগের মতো সহায়তা না পাওয়ায় হুথিরা চাপে পড়েছে। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে গত জুলাই থেকে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী নতুন উদ্যমে সানা পুনরুদ্ধারের সামরিক অভিযান শুরু করেছে।
(সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি)