ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

বাজেয়াপ্ত হচ্ছে শেখ হাসিনার সম্পদ, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর কার নামে?


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১:৩৮ পিএম

জুলাই গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড এবং তাঁদের মালিকানাধীন সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ঐতিহাসিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে কীভাবে সেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে, কোন নির্দিষ্ট সংস্থা এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং উদ্ধারকৃত অর্থ বা সম্পদ কীভাবে জুলাই শহীদদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে আইনি কাঠামো তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, প্রচলিত আইন বা বিধিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান আগে থেকেই রয়েছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সাধারণ আইনি ব্যবস্থার আওতায় পড়ে। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারির আহ্বান জানানো হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে এর একটি কার্যকারী অতীত প্রভাব বা 'রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট' থাকবে, যার ফলে পূর্বে ঘোষিত রায় অনুযায়ী সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে কোনো ধরনের আইনি বাধা তৈরি হবে না।

 

এই সিদ্ধান্তের পরই জনমনে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ নামে দেশে কী কী সম্পদ রয়েছে যা বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়ায় আসবে, আর ঐতিহাসিক ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বিখ্যাত বাড়িটির প্রকৃত মালিকানা তাঁর নামে রয়েছে কি না। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজ নামে প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ঘোষণা করেছিলেন।

 

যার মধ্যে নগদ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা, ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ছিল। এ ছাড়া তাঁর তিনটি গাড়ি, ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু এবং ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ছিল। তাঁর মালিকানায় টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে মোট ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমিও রয়েছে।

 

তবে গাজীপুরের মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ঘেঁষে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের একটি বিশাল ৯ বিঘার বাগানবাড়ি রয়েছে, যা ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি দিয়ে যান। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক হয়ে কিছু অংশ সজীব ওয়াজেদ, সায়মা ওয়াজেদ, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের নামে লিখে দেন।

 

রাজধানী ঢাকার পূর্বাচলে শেখ হাসিনাসহ তাঁর পরিবারের ছয়জন সদস্যের নামে যৌথভাবে ৬০ কাঠার মূল্যবান প্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া টুঙ্গিপাড়ায় ৬ দশমিক ১০ শতক জমির ওপর তিনতলা একটি ভবন রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছিল ৫ লাখ টাকা। তবে দুদক অনুসন্ধানে পেয়েছিল, ২০০৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় তিনি মাত্র ৬ দশমিক ৫০ একর জমি দেখালেও প্রকৃতপক্ষে তাঁর নামে ২৮ একর ৪১ শতকেরও বেশি স্থাবর সম্পত্তি বিদ্যমান ছিল।

 

অন্যদিকে, দেশের বহুল আলোচিত ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িটির একক মালিকানা কিন্তু শেখ হাসিনার নামে নেই। স্থানীয় ভূমি কার্যালয় ও প্রশাসনিক নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ৩২ নম্বর বাড়িটির সার্বিক মালিকানা পরিচালনা করে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট'। তবে ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত 'সুধা সদন'-এর প্রকৃত মালিকানা রয়েছে তাঁর সন্তান সজীব ওয়াজেদ ও সায়মা ওয়াজেদের নামে।

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, শেখ হাসিনা ও অন্যান্য দণ্ডপ্রাপ্তদের বাজেয়াপ্ত সম্পদ থেকে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারগুলোকে 'উল্লেখযোগ্য ক্ষতিপূরণ' হিসেবে অর্থ প্রদান করবে সরকার। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনায় আরও কয়েকজন অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ বহাল রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর