ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

শিক্ষকতার ফাঁকে পেঁপে চাষ, ৫ লাখ টাকা বিক্রির আশা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:২২ পিএম

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন , গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি 

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়ন এলাকার একজন স্কুল শিক্ষক শিক্ষকতার পাশাপাশি পেঁপে চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ওই শিক্ষকের চাষকৃত পেঁপে বাগানে শাহী জাতের পেঁপের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে করে তিনি খরচ বাদে ৩ লক্ষাধিক টাকা লাভের আশা করছেন।


তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড মৃধা ডাঙ্গা গ্রামের মোতালেব শেখের ছেলে জহির রায়হান। তিনি স্থানীয় ৬ নং রিয়াজউদ্দিন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। 


কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, শাহী পেঁপে একটি উচ্চ ফলনশীল ও সুমিষ্ট স্বাদের বারোমাসি পেঁপে জাত, যা বাণিজ্যিক চাষাবাদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। শাহী পেঁপে একটি উচ্চ ফলনশীল ও একলিঙ্গী জাত। গাছের উচ্চতা ১.৬ থেকে ২.০ মিটার হয় এবং কান্ডের খুব নিচ থেকেই ফল ধরা শুরু করে। ফল ডিম্বাকৃতির হয়। প্রতিটি ফলের ওজন সাধারণত ৮০০ থেকে ১০০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। উপযুক্ত পরিচর্যা ও সেচসহ হেক্টরপ্রতি ফলন প্রায় ৪০ থেকে ৬০ টন পর্যন্ত পাওয়া যায়। চারা রোপণের ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া শুরু হয়। ভালো মাটি এবং যত্ন পেলে ৫-৬ কেজি পর্যন্ত একটা পেঁপের ওজন হয়।


কৃষি উদ্যোক্তা জহির রায়হান বলেন, আমি পেশায় একজন শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি সখের বসে কৃষি কাজ করে থাকি। ১০ বছর ধরে নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন মৌসুমী চাষাবাদ করে আসছি। দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবছর দুই বিঘা জমিতে শাহী পেঁপের বাগান করেছি। দুই বিঘা জমিতে প্রায় দুইশত পেঁপে চারা রোপণ করেছি। এতে আমার প্রায় দুই লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। আল্লাহর রহমতে ফলন‌ও হয়েছে প্রচুর। আশা করছি প্রায় ৫ লক্ষ টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারবো। তিনি আক্ষেপ নিয়ে বলেন, সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা আমরা পাইনি। এমনকি মাঠে এসে কেউ কখনো খোঁজ‌ও নেয়নি। তবে বিভিন্ন বীজ কোম্পানির লোক আমাকে পরামর্শ দিয়ে পাশে থেকেছেন।


এব্যাপারে গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ রায়হানুল হায়দার সরেজমিনে প্রদর্শন করে বলেন, ফলের মধ্যে পেঁপে একটি সম্প্রসারণ ফল। নতুন উদ্যোক্তারা পেঁপের আবাদ বৃদ্ধি করছে। এ উপজেলায় এবার ১০ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হয়েছে। আমি মনে করি ওনারা একটি গোছানো বাগান করেছেন। এই বাগানের পেঁপে ফল হিসেবে বিক্রি করছেন এজন্য তিনি ভালো দাম‌ও পাচ্ছেন। এই সময়ে মৌসুমী ফল কমে যাওয়ায় সেখানে এই পেঁপে ফল হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। ইচ্ছে করলে তিনি সবজির বাগান হিসেবে বাজার দখল করতে পারেন।


এটা হাইব্রিড জাতের পেঁপে নয় বরং উফসী জাত যেটা ফল থেকে বীজ রেখে কৃষক বা প্রতিবেশি যারা আছেন তারা চারা উৎপাদন করে বাগান করতে পারবেন। পেঁপে চাষ করাটা একটু চ্যালেঞ্জিং কারণ জলাবদ্ধতার একটা ব্যাপার থাকে তবে জমি উঁচু করে অথবা পুকুর পাড়ে সারিবদ্ধভাবে পেঁপে চাষ করতে পারে। ভৌগোলিকভাবে গোয়ালন্দ উপজেলা একটি চমৎকার জায়গা কারণ এর আশেপাশে বিভিন্ন বাজার, রাজবাড়ী জেলা, ফরিদপুর জেলা ও নদী পার হলেই খুব সহজে ঢাকা নিয়ে পেঁপে বিক্রি করে চাষিরা লাভবান হতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, এ উপজেলার জমির উর্বরতা অনেক ভালো। কৃষি উউদ্যোক্তা জহির রায়হান ও তার ভাই শাখাওয়াতের মতো পেঁপে চাষ করে লাভবান হতে পারেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর