ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

ইসরায়েল নির্বাচনে ৩৮ দল, নেতানিয়াহুর জোট চাপে


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:১৫ এএম

ঢাকা টুডে ডেস্ক

ইসরায়েলের আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নেসেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩৮টি রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থী তালিকা জমা দিয়েছে। ১২০ আসনের নেসেটে এসব দলের মধ্যে জনমত জরিপে প্রায় ১৩টি দল আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। প্রার্থী তালিকা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এখন তালিকাগুলো যাচাই-বাছাই এবং আপত্তি পর্যালোচনার পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

 

সেন্ট্রাল ইলেকশনস কমিটির নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দল ও রাজনৈতিক জোটগুলোর প্রার্থী তালিকা জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়। এরপর কমিটি প্রতিটি তালিকা পর্যালোচনা করছে এবং কোনো দল বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে জমা পড়া আপত্তিগুলো পরীক্ষা করছে। আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে অন্তত একজন এবং সর্বোচ্চ ১২০ জন যোগ্য প্রার্থীর নাম তালিকায় দিতে পারে। একাধিক দল যৌথভাবেও একটি তালিকা জমা দিতে পারে। তালিকায় নাম থাকা প্রত্যেক প্রার্থীকে লিখিত সম্মতি দিতে হয়।

 

জনমত জরিপে ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। বিরোধী শিবিরের উল্লেখযোগ্য দলগুলোর মধ্যে সাবেক ইসরায়েলি সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন টুগেদার পার্টি রয়েছে। এছাড়া সাবেক উপ-সেনাপ্রধান ইয়াইর গোলানের নেতৃত্বাধীন দ্য ডেমোক্র্যাটস এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদোর লিবারম্যানের নেতৃত্বাধীন ইসরায়েল বেইতেনু দলও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

 

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোটে রয়েছে তার নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি। এ জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বাধীন ওতজমা ইয়েহুদিত পার্টি। পাশাপাশি আর্যেহ দেরির নেতৃত্বাধীন ধর্মীয় শাস পার্টি, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম পার্টি এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের নেতৃত্বাধীন রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টিও এ শিবিরে রয়েছে।

 

আরব দলগুলোর মধ্যেও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, তিনটি আরব দলের জোট জয়েন্ট লিস্ট এবং মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড আরব লিস্ট নেসেটে আসন পেতে পারে। একই সঙ্গে অফার উইন্টারের নেতৃত্বাধীন পিপল অব ইসরায়েল পার্টি এবং ইয়োয়াজ হেন্ডেলের নেতৃত্বাধীন রিজার্ভিস্টস পার্টিও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে এসব দলের নির্বাচনী সীমা পার হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন জরিপে ভিন্ন ভিন্ন পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।

 

সাবেক ইসরায়েলি সেনাপ্রধান বেনি গান্টজের নেতৃত্বাধীন ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টির জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন। জনমত জরিপগুলোতে দলটি নেসেটে কোনো আসন পেতে ব্যর্থ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

 

প্রার্থী তালিকা জমা দেওয়ার পর এখন আপত্তি জানানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সেন্ট্রাল ইলেকশনস কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো প্রার্থী বা তালিকার বিরুদ্ধে আপত্তি জানানো যাবে। কোনো তালিকা বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপত্তি উঠলে সংশ্লিষ্ট দল বা প্রার্থীর ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জবাব দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

 

কোনো প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হলে তা অনুমোদনের জন্য সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকবে না। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ১৮ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি গেজেটে প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

 

ইসরায়েলের বেসিক ল: দ্য নেসেট-এর ৭এ ধারায় কোনো দল বা প্রার্থীকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান রয়েছে। যদি কোনো দল বা প্রার্থীর লক্ষ্য বা কর্মকাণ্ডে ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্ব অস্বীকার করা, বর্ণবাদে উসকানি দেওয়া কিংবা কোনো শত্রু রাষ্ট্র বা সন্ত্রাসী সংগঠনের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামকে সমর্থনের বিষয় স্পষ্ট বা পরোক্ষভাবে পাওয়া যায়, তাহলে তাদের অযোগ্য ঘোষণা করা যেতে পারে।

 

এবারের নির্বাচনে প্রথম প্রকাশ্যে আসা আপত্তিগুলোর একটি মানসুর আব্বাস ও ইউনাইটেড আরব লিস্টকে ঘিরে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথ বুধবার জানিয়েছে, ইতামার বেন-গভিরের ওতজমা ইয়েহুদিত পার্টি সেন্ট্রাল ইলেকশনস কমিটির কাছে ইউনাইটেড আরব লিস্ট ও মানসুর আব্বাসকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন করেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বেন-গভিরের অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, আব্বাস ও তার সহকর্মীরা ‘সন্ত্রাসী’ এবং তারা ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসকে সমর্থন করেছেন।

 

৩৯ পৃষ্ঠার ওই আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ইউনাইটেড আরব লিস্ট ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্বের বিষয়টি অস্বীকার করে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শত্রু রাষ্ট্র ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সশস্ত্র সংগ্রামকে সমর্থন করে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা মানসুর আব্বাসের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

ইসরায়েলে নেসেট নির্বাচন সাধারণত প্রতি চার বছর পর অনুষ্ঠিত হয়, যদি সংসদ পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারে। তবে অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থনে আইন পাস করে নেসেট আগাম ভেঙে দেওয়া সম্ভব। সেন্ট্রাল ইলেকশনস কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ইতিহাসে ১২ বার নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২৬তম নেসেটের জন্য এবারের নির্বাচন ১৯৮৮ সালের পর প্রথমবার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতে নেসেটের অন্তত ৬১ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

 

এদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোটের তুলনায় বিরোধী দলগুলো এগিয়ে রয়েছে। ফলে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর পক্ষে আবার সরকার গঠন করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ৩৮টি দলের প্রার্থী তালিকা জমা দেওয়ার পর এখন নজর আপত্তি নিষ্পত্তি, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা এবং নির্বাচনী প্রচারের দিকে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


এ সম্পর্কিত আরো খবর