চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী সিএমএইচে সশরীরে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসাধীন ওই আহত সেনা কর্মকর্তার শয্যাপাশে কিছুক্ষণ সময় কাটান এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসাসেবার সার্বিক খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিকিৎসাধীন আহত সেনা কর্মকর্তার দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন। সেই সঙ্গে তার উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি নির্দেশ দেন যেন চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ত্রুটি বা অবহেলা না থাকে এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই কর্মকর্তার আরোগ্য লাভের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী সিএমএইচে অবস্থানকালে হাসপাতালে এক অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে উপস্থিত আহত সেনা কর্মকর্তা এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় বিপর্যস্ত পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং তাদের মনে সাহস ও সান্ত্বনা জোগান।
উল্লেখ্য, গত বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি নিয়মিত ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ভাগ্যজনকভাবে এক আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সেনাবাহিনীর দুই সদস্য প্রাণ হারান এবং একজন সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই আহত ওই সেনা কর্মকর্তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার সুবিধার্থে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এনে ভর্তি করা হয়।
হাটহাজারীর এই ফায়ারিং অনুশীলনে দেশসেবায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় প্রাণ হারানো দুই বীর সেনাসদস্যের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, দেশ ও জাতির সুরক্ষায় নিয়োজিত সেনা সদস্যদের এই আত্মত্যাগ ও অবদান সর্বদাই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।