আন্তর্জাতিক
ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে
নতুন করে সংঘাতের দাবানল ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে নজিরবিহীন বিমান হামলা জোরদার করেছে সৌদি আরব। ইয়েমেনি যোদ্ধাদের দাবি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার—মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে
হুথি নিয়ন্ত্রিত কৌশলগত এলাকাগুলো লক্ষ্য করে অন্তত ২৬টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বিমান বাহিনী। ইরানের সমর্থনপুষ্ট এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি
জানিয়েছে, সম্প্রতি তাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকা এবং সামরিক ও লজিস্টিক স্থাপনা
লক্ষ্য করে সৌদি আরবের সামরিক তৎপরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে
ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দফায় বিমান হামলা শুরু করে রিয়াদ। বিশেষ করে গত ১১ সেপ্টেম্বর
থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে সৌদি বিমান বাহিনী হুথিঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রায় ৩০০টি পৃথক বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
এই
চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই গত ১৬ সেপ্টেম্বর
এক বড় ধরনের কৌশলগত সাফল্য অর্জন করে হুথি বাহিনী। সেদিন তারা সৌদি বিমান বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান
ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানটির চারপাশে জড়ো হয়ে হুথি যোদ্ধারা উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিচ্ছেন। যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার এই ঘটনা সৌদি
সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে,
গত আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই সৌদি আরবের সঙ্গে হুথি গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা
চরম আকার ধারণ করে। জবাবে বেশ কয়েকটি বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে ইয়েমেনি যোদ্ধারা। এর পরপরই গত
১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে
সংযোগকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব এল মান্দেব প্রণালি
নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেয় হুথিরা, যা রিয়াদের জন্য
একটি বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধাক্কা।
যুক্তরাষ্ট্র
ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের কারণে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যেই অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাব
এল মান্দেব প্রণালি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত দুঃসংবাদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কারণ, এত দিন ধরে
এই আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ব্যবহার করেই নিজেদের উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে আসছিল সৌদি আরব।
উল্লেখ্য,
যায়িদি শিয়াপন্থি মুসলিমদের এই গোষ্ঠীটির আদি
বাসস্থান ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে। ২০১৫ সাল থেকে পুরো উত্তর ইয়েমেন নিজেদের শক্ত নিয়ন্ত্রণে রাখলেও তাদের মূল লক্ষ্য পুরো দেশের শাসনভার গ্রহণ করা। তবে তাদের এই পথ চলায়
মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরব এবং রিয়াদ সমর্থিত ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
সূত্র
: এএফপি