ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেশকার-কেরানিদের কোটি টাকার সাম্রাজ্য, আদালতে বিচারহীনতার করুণ চিত্র! মার্কিন রণতরিতে ফুটবল জাদুকর, তিন দশক পর ছড়ালো ম্যারাডোনার ছবি পাকিস্তানে পুলিশ সদর দপ্তরে রক্তক্ষয়ী হামলা, নিহত বেড়ে ৩১ স্বর্ণের বাজারে নতুন রেকর্ড, ভরিতে বাড়লো প্রায় ১৭০০ টাকা শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার পথে মেক্সিকো ফ্যাশন আইকন ও কালজয়ী নায়ক সালমান শাহের আজ জন্মদিন গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় ডেনমার্ক-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ জ্বালানি সংকটে কিউবায় ফের দেশজুড়ে অন্ধকার ইউনিয়ন বার্লিনকে ৭-০ গোলে হারাল বায়ার্ন মিউনিখ সিএনএনসহ ৩ সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

পেশকার-কেরানিদের কোটি টাকার সাম্রাজ্য, আদালতে বিচারহীনতার করুণ চিত্র!


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ২:১৮ পিএম

রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির যে শিকড় বিস্তার করেছে, তা আজ কোনো গোপন বিষয় নয়। কিন্তু সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্নটি হলো—রাষ্ট্র কি সংবিধানে প্রতিশ্রুত সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সত সত্যিই আন্তরিক? সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা কমবেশি ২২ লক্ষ। এর সঙ্গে যদি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সুবিশাল রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও কাঠামোগত সুবিধাভোগীদের যোগ করা হয়, তবে এই সংখ্যা বিপুল রূপ ধারণ করে। সাধারণ একটি ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় দলীয় সভাপতিও নিজস্ব কার্যালয় খুলে বসেন, লোকলস্কর নিয়ে বিচার-আচারের নামে প্রভাব বিস্তার করেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

 

বিশাল এই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে যে ব্যাপক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার সংঘটিত হয়, তা দমন ও প্রাক-নিয়ন্ত্রণের জন্য রাষ্ট্রের কাছে একটিমাত্রই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান রয়েছে—দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এই বিশাল জনসংখ্যার দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য দুদকে মোট অনুমোদনপ্রাপ্ত জনবল মাত্র ২,১৪৬ জন। গাণিতিক হিসাবই বলে দেয়, ২২ লক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কোটি কোটি রাজনৈতিক ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের ওপর মাত্র দুই হাজার জনবল দিয়ে নজরদারি চালানো কতটা অসম্ভব ও অলীক কল্পনা।

 

সম্প্রতি সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনে নতুন নেতৃত্ব নিয়োগ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সাবেক অত্যন্ত সৎ, দক্ষ ও কর্মঠ হিসেবে পরিচিত বিচারক এ.কে.এম আসাদুজ্জামান দুদকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার যোগ্য নেতৃত্বে সংস্থাসমূহকে পুনর্গঠিত করার এবং একটি কার্যকর দুর্নীতিবিরোধী পরিমণ্ডল তৈরির বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ব্যক্তি সৎ হলেই কি দীর্ঘদিনের পচন ধরা ব্যবস্থা রাতারাতি বদলে যেতে পারে, যদি না রাষ্ট্র প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ও জনবলের অভাব দূর করে?

 

প্রথম অংশ: নিম্নপদস্থ কর্মচারীরা কীভাবে কোটিপতি হয়?

বাংলাদেশের আমলাতান্ত্রিক ও আইনি ব্যবস্থার অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হলো—এখানকার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় শত কোটি টাকার মালিক বনে যান। কিন্তু তাদের এই অস্বাভাবিক সম্পদের ওপর রাষ্ট্র বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সময়মতো নজর পড়ে না।

 

১. আদালতের পেশকারদের অর্থসাম্রাজ্য:

 

আদালতের একজন পেশকার মূলত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী, যার সরকারি বেতন স্কেল অনুযায়ী মাসিক আয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। অথচ বাস্তব অনুসন্ধানে দেখা যায়, অসংখ্য পেশকারের রাজধানী ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, নিজ গ্রামে রাজপ্রাসাদতুল্য বাড়ি এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে। মামলার শুনানির তারিখ পরিবর্তন করা, জামিনের ফাইল বা নথি আগে বা পরে এজলাসে তোলা এবং মামলার গতি বদলে দেওয়ার মতো অবৈধ লেনদেই তাদের এই বিপুল সম্পদের মূল উৎস। অথচ ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’-এর ২৬ ও ২৭ ধারা অনুযায়ী জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং অবৈধ উপায়ে সম্পত্তি লালন করা স্পষ্টত দণ্ডনীয় অপরাধ।

 

২. সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানিদের প্রতাপ:

 

ভূমি ব্যবস্থাপনায় সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের প্রধান সহকারী বা কেরানির ক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রে খোদ সাব-রেজিস্ট্রারের চেয়েও বেশি পরিলক্ষিত হয়। একজন সাধারণ কেরানি কীভাবে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বহুতল বাড়ির মালিক হন এবং বসুন্ধরা সিটিতে চারটি বাণিজ্যিক দোকানের মালিকানা লাভ করেন? কথিত রয়েছে, তার নির্মিত বিলাসবহুল ভবন উদ্বোধনে হাজির ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এটি তো প্রকাশ্য দুর্নীতির এক নগ্ন প্রদর্শনী। কিছুদিন আগে তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দুদকের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ ছিল। তবে কেবল একটিমাত্র অভিযানই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দৈনন্দিন নজরদারি। বাস্তবে একজন সাব-রেজিস্ট্রার বা কেরানি কয়েক শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার পরও ক্ষমতার জোরে মামলা ‘ম্যানেজ’ করে বহাল তবিয়তে চাকরি চালিয়ে যাওয়ার নজির এ দেশে বিরল নয়।

 

৩. রাজউকের পরিদর্শক ও নিরাপত্তা প্রহরী:

 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ইমারত পরিদর্শকরা একটি ভবনের নকশা অনুমোদনের নাম করে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেন বলে ভুক্তভোগীদের ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষ্ময় তৈরি করেছিলেন রাজউকের একজন সাধারণ নিরাপত্তা প্রহরী—আব্দুল মালেক। শত কোটি টাকার সম্পদ ও স্থাবর সম্পত্তির মালিক হওয়ার পর গণমাধ্যমে তার নাম উঠে আসে। বর্তমানে দেশে এমন কোনো সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যেখানে কম-বেশি দুর্নীতির চাকা ঘোরে না।

 

দ্বিতীয় অংশ: গাজীপুর আদালতে বিচারহীনতার অভিযোগ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা

একজন দুর্নীতিবিরোধী গবেষক ও সংবাদকর্মী হিসেবে আমার ব্যক্তিগত তিক্ত অভিজ্ঞতা দুর্নীতির এই অন্ধকার চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। আমি দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লেখালেখি ও গবেষণা করি। এই পরিচয়ের কারণে গাজীপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং সেখানকার পেশকার হয়তো সরাসরি আমার কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা দাবি করেন না। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহারের রূপটি ভিন্ন—অভিযোগ রয়েছে, তারা আমার বিবাদী পক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে আমার দায়ের করা মামলায় সম্পূর্ণ পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন।

 

মামলাটির প্রধান বিবাদী হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও উক্ত বিবাদী অদ্যাবধি একদিনের জন্যও আদালতে সশরীরে হাজির হননি। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, আদালতের নথিপত্রে তাকে ভুয়া 'উপস্থিত' দেখিয়ে তার পক্ষে একের পর এক সময় মঞ্জুর করা হচ্ছে। যেখানে পুরো দেশের মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চিহ্নিত রাজনৈতিক অপশক্তিকে বয়কট করছে, সেখানে গাজীপুর আদালতের মতো সংবেদনশীল স্থানে তাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে।

 

ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) এবং দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC) অনুযায়ী, বিবাদী যদি সমন বা পরোয়ানা পাওয়ার পরও আদালতে অনুপস্থিত থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে একতরফা (Ex-parte) আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ এখানে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনুপস্থিত বিবাদীকে কাগজপত্রে উপস্থিত বানিয়ে সময় দেওয়া হচ্ছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং সরাসরি আদালত অবমাননার সমতুল্য।

 

আমি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছি, একজন সিকেডি (ক্রনিক কিডনি ডিজিজ) রোগী হিসেবে একা একা স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারি না। আমি যখন দালিলিক প্রমাণ নিয়ে কোনো সরকারি অফিসে যাই, আমার লেখালেখির কারণে কেউ হয়তো প্রকাশ্যে ঘুষ চায় না, কিন্তু আমার আইনি কাজটিও করে দেয় না; বরং নানা বাহানায় ঘোরাতে থাকে। সম্প্রতি আমার স্ত্রীকে নিয়ে একটি সরকারি অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানকার শীর্ষ কর্মকর্তা বাহ্যিক বিনয় দেখিয়ে আমাদের ফল ও নাস্তা এনে খাওয়ালেন। কিন্তু কাজের বেলায় মাদার অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকরি ব্যবস্থা নিলেন না। আমি তাকে পরখ করার জন্য কিছু টাকা দিতে চাইলে তিনি বললেন—"আমি অনেক বেতন পাই, আমি ঘুষ খাই না।" এটি প্রশাসনিক জটিলতা ও অকর্মণ্যতার এমন এক আধুনিক রূপ, যেখানে ঘুষ নেওয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় ঠিকই, কিন্তু নাগরিকের বৈধ কাজ না করে ঘোরাতে ঘোরাতে হয়রান করা হয়।

 

রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতি দমনে সুনির্দিষ্ট সুপারিশসমূহ

রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের ন্যায়বিচার দিতে চায় এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো গড়তে চায়, তবে কালবিলম্ব না করে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি:

 

১. দুদকের জনবল বৃদ্ধি: দুর্নীতি দমন কমিশনের জনবল অবিলম্বে অন্তত ২০ হাজারে উন্নীত করতে হবে। সরকার যদি দুদকের অবকাঠামো ও জনবল বাড়াতে ১০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিনিয়োগ করে, তবে প্রশাসনিক চুরি থামিয়ে জনগণের অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব।

 

২. বিকেন্দ্রীকরণ ও মনিটরিং সেল: প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে দুদকের বিশেষ আদালত স্থাপন করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিটি উপজেলায় দুদকের শাখা কার্যালয় চালু করতে হবে। এদের কাজ হবে প্রতিদিন স্থানীয় ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এবং বিচারালয়ের পেশকারদের কাজের ওপর আকস্মিক নজরদারি চালানো।

 

৩. সম্পদের হিসাব অনলাইনকরণ: প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ইউপি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের অর্জিত সম্পদের হিসাব প্রতি বছর অনলাইনে প্রকাশ্যে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

 

৪. দুদকের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান: দুদকের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অসাধু কর্মকর্তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে বরখাস্ত করতে হবে এবং সৎ ও সাহসী কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করতে হবে।

 

৫. বিশেষ তদন্ত সেল গঠন: আদালতের পেশকার, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানি ও পরিদর্শকদের অবৈধ আয়ের উৎস খতিয়ে দেখতে এবং অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে তদন্ত শুরু করতে দুদকের একটি নিবেদিত ‘বিশেষ সেল’ গঠন করতে হবে।

 

রাষ্ট্র বাস্তবে কী চায়—তা নির্ভর করছে তার প্রয়োগিক সদিচ্ছার ওপর। মুখের কথায় ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে কাজের বেলায় পিয়ন-কেরানিদের কোটিপতি হওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং আদালতে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের ভুয়া উপস্থিতির মাধ্যমে আইনি ছাড় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্র যদি আইনের শাসন পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ নাগরিকের বিচারের আশা চিরতরে সুদূর পরাহত হয়ে থাকবে।

লেখক: আব্দুল কাইয়ুম খান,  পরিচালক, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান


এ সম্পর্কিত আরো খবর