দেশের বাজারে আবারও হু হু করে বাড়ছে স্বর্ণের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে বিলাসী এই ধাতুর মূল্য নতুন করে সমন্বয় করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকায়। ফলে অলংকার তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সোনার বাজার আরো ব্যয়বহুল হয়ে উঠলো।
শনিবার সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) 'স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং'-এর এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সর্বসম্মত প্রস্তাবনার পর সেদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন এই দর সারা দেশে কার্যকর করা হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পাকা সোনার অর্থাৎ তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনার পরই ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বার্থ বিবেচনায় সার্বিক পরিস্থিতি অনুযায়ী দর পুনর্নির্ধারণের এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
নতুন দরপত্র অনুযায়ী, দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে এখন থেকে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণ কিনতে গুণতে হবে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এর পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা। একইভাবে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকায়। পরবর্তীতে বাজুস নতুন কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য তালিকায় বেচাকেনা চলবে।
এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ স্বর্ণের দর সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেই সময়েও ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ায় সংস্থাটি। ১২ সেপ্টেম্বরের ওই সমন্বয়ের পর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হয়েছিল প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকায়। পরপর দুই দফায় দাম বাড়ায় দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সোনার বাজারে বড় ধরণের প্রভাব পড়েছে।
স্বর্ণের মূল্যের পাশাপাশি কেনাবেচা ও রূপান্তরের নিয়মেও বেশ কিছু নির্দেশনা স্পষ্ট করেছে বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিটি অলংকারের প্রস্তুতশৈলী ও ডিজাইন ভেদে নির্ধারিত মজুরি প্রযোজ্য হবে। অলংকারের মূল বিক্রয়মূল্যের ভেতরেই সরকার নির্ধারিত ভ্যাট যুক্ত থাকবে, ফলে গ্রাহকের নিকট থেকে আলাদাভাবে কোনো ভ্যাট আদায় করা যাবে না। অন্যদিকে, গ্রাহকরা পুরোনো অলংকার পরিবর্তনের (এক্সচেঞ্জ) ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের প্রকৃত মূল্য বাদ দিয়ে অবশিষ্ট মূল্যের ১২ শতাংশ কর্তন করা হবে। আর পুরোনো অলংকার সরাসরি বিক্রয় বা পারচেজের ক্ষেত্রে কর্তন করা হবে ১৮ শতাংশ। এক্সচেঞ্জ বা পারচেজের ক্ষেত্রে ভ্যাট বাবদ আলাদা কিছু কাটার সুযোগ থাকবে না।