পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে চালানো এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। একটি আঞ্চলিক পুলিশ সদর দপ্তরে অতর্কিত বোমাহেমা ও লাগাতার গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিরাপত্তাকর্মীসহ মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। হঠাৎ চালানো এই নারকীয় হামলায় পুরো এলাকা যেন এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী বাহিনীর সূত্রের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলের দিকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার ঐতিহ্যবাহী শহর কোহাতে অবস্থিত 'ওল্ড পুলিশ লাইনস' কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল হামলাকারী এই তাণ্ডব চালায়। প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের অধিবাসী এই কোহাত শহরের উক্ত কমপ্লেক্সটি মূলত জেলা পর্যায়ের প্রধান পুলিশ কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। অধিকন্তু, অত্যন্ত নিরাপত্তাবেষ্টিত এই বিশাল প্রাঙ্গণটির ভেতরেই ছিল কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট, স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ পুলিশের বেশ কয়েকটি অতিগুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিশেষায়িত ইউনিটের দপ্তর।
উগ্রবাদীদের এই অতর্কিত হামলায় ও পরবর্তীতে ঘটা শক্তিশালী আত্মঘাতী বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০০ জনেরও বেশি মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, হতাহতদের একটি বড় অংশই কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা আহতদের অনেকের শারীরিক অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের এই মিছিল আরো দীর্ঘ হতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর আঘাত হানা এই ধ্বংসাত্মক ঘটনার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধঘোষিত পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপির সাথে সম্পৃক্ত একটি স্থানীয় উগ্রবাদী দল। 'ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান' নামের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকেই পুরো কোহাত শহর জুড়ে চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের সহযোগীদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক চিরুনি অভিযান শুরু করেছে দেশটির যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী।