যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চলতি সপ্তাহে হওয়া ফোনালাপকে ‘খুব ভালো’ উল্লেখ করে তিনি জানান, দুই দেশ একটি সম্ভাব্য সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে শেইনবাউম বলেন, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। তবে আলোচনার বিস্তারিত বিষয়বস্তু চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করা হবে না বলেও জানান তিনি।
শেইনবাউম জানান, বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়। ওই আলোচনায় মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্তো ভেলাসকো এবং অর্থমন্ত্রী মার্সেলো এবরার্ডও অংশ নেন। দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেক্সিকোর প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির ওপর শুল্ক কমানো। পাশাপাশি পণ্যের উৎপত্তি-সংক্রান্ত নিয়ম এবং উত্তর আমেরিকার সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও দেশটি আলোচনা করছে।
এই আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি বা ইউএসএমসিএর পর্যালোচনার অংশ। উত্তর আমেরিকার তিন দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পরিচালনায় এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। চলতি বছর মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এ নিয়ে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে।
জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার আলোচনায় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, শ্রম, কৃষি, ইলেকট্রনিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থা, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ি শিল্পসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের কর্মকর্তারা।
আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে পণ্যের উৎপত্তি-সংক্রান্ত নিয়ম। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার বাইরের দেশ থেকে আসা উপাদান ব্যবহার করে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কী হবে, তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ওয়াশিংটন আঞ্চলিকভাবে পণ্য ও উপাদান সংগ্রহের শর্ত আরও কঠোর করতে চাইছে। অন্যদিকে মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার এবং উত্তর আমেরিকার সমন্বিত উৎপাদনব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে চাইছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের খাতভিত্তিক শুল্কের মধ্যেই এই আলোচনা এগিয়ে চলছে। মেক্সিকো ইউএসএমসিএ কাঠামো বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পে আরোপিত শুল্কের বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে।
উত্তর আমেরিকার অর্থনীতিতে তিন দেশের মধ্যে ব্যাপক পারস্পরিক নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মেক্সিকোর প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। তাই আলোচনায় মেক্সিকোর শ্রমিক, ব্যবসা ও বিনিয়োগ সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
শেইনবাউম এর আগে একাধিকবার বলেছেন, আলোচনার সময় মেক্সিকো তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প মেক্সিকোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের কিছু পরিবর্তনের বিষয় বিবেচনা করার কথা জানান। এর মধ্যেই শুক্রবার শেইনবাউম আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানালেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি