ভারতের
সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন
কার্যালয়ে ইমেইলের মাধ্যমে ভুয়া বোমা হামলার হুমকিকে কেন্দ্র করে উন্মোচিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভুয়া ইমেইল নেটওয়ার্ক। প্রায় ৫ লাখের বেশি
ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এসব হুমকি পাঠানো হচ্ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘ অনুসন্ধানে বিশাল এই নেটওয়ার্কের সন্ধান
মেলার পাশাপাশি দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও, পুরো ঘটনাটি এবার শীর্ষ প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থার
ওপর তীব্র প্রশ্নের তীর ছুঁড়ে দিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা
বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গুজরাট পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা এক বিশেষ অভিযানে
২০২২ সাল থেকে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত ৫ লাখ ১৩
হাজার ৮৪৭টি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট এবং সেগুলোর পাসওয়ার্ড সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধার করেছে। নজিরবিহীন এই জালিয়াতির বিষয়ে
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর ও জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি
নিচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনায় গুজরাট
পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবেক ভেদা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, এত বিপুল সংখ্যক
ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট একসঙ্গে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি। গুগলের প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তানীতি আরও কঠোর ও জোরদার করার
বিষয়ে কথা বলতে শিগগিরই তাদের চিঠি পাঠানো হবে।
তদন্তকারীদের
মূল নজর এখন গুগলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর। পুলিশের দাবি, প্রযুক্তি জায়ান্টটির কঠোর নিরাপত্তা ধাপগুলো এড়িয়ে কীভাবে এত বিপুল সংখ্যক
অ্যাকাউন্ট তৈরি ও নিয়মিত পরিচালনা
করা সম্ভব হলো, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় রহস্য। এমনকি এসব ভুয়া অ্যাকাউন্টে গুগলের দুই স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা বা ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’
সক্রিয় থাকার পরও অপরাধীরা কীভাবে তা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে
রাখল, সে বিষয়েও ব্যাপক
অনুসন্ধান চলছে।
মূলত
গত ১০ সেপ্টেম্বর গুজরাট
রাজ্য সরকার ইমেইলে একটি ভীতিপ্রদর্শনমূলক বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর অনুসন্ধানে নামে
পুলিশ। সময়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ তার কয়েক দিন পরই নয়াদিল্লিতে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওই ইমেইলে ভারতের
পাশাপাশি সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া অন্যান্য মিত্র দেশগুলোকেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সম্পূর্ণ
ভুয়া প্রমাণিত হয়।
তদন্তের
গভীরে গিয়ে পুলিশ আন্তর্জাতিক একটি চক্রের সম্পৃক্ততা উন্মোচন করেছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন বাংলাদেশের এক ক্রেতার সঙ্গে
নিয়মিত লেনদেন বজায় রাখতেন। ওই ক্রেতা ক্রিপ্টোকারেন্সির
মাধ্যমে আংশিক অর্থ পরিশোধ করে জিমেইল অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন ব্যাচ কিনে নিতেন এবং পরবর্তীতে সেসব অ্যাকাউন্ট থেকেই উসকানিমূলক বার্তা পাঠানো হতো।
কীভাবে
এত বিপুল নেটওয়ার্ক এতদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সক্রিয় রইল, তা নিয়ে প্রযুক্তি
বিশ্বেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্তের আওতায় আনা হলেও শেষ পর্যন্ত গুগলের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
বিষয়টি নিয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি।
ভারতে
প্রযুক্তিভিত্তিক সাইবার অপরাধের কারণে বছরে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতি হয় বলে রয়টার্স
জানিয়েছে। তবে অর্থনৈতিক ক্ষতির বাইরেও বিশ্বজুড়ে গুগলের মতো স্বনামধন্য প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এখন বড় ধরনের সংশয়
দেখা দিয়েছে।