ইয়েমেনের
আকাশে যুদ্ধকালীন উত্তেজনার পারদ আরও এক ধাপ বাড়িয়ে
সৌদি আরবের একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান
আকাশেই গুঁড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। মারিব প্রদেশের সংবেদনশীল আকাশসীমায় শত্রুতামূলক সামরিক অভিযান পরিচালনা করার সময় স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিশেষ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুদ্ধবিমানটিতে আঘাত হানা হয় বলে দাবি ইয়েমেনি গোষ্ঠীটির।
নিজেদের
এই সামরিক অগ্রগতির প্রমাণ হিসেবে ইয়েমেনি যোদ্ধারা হামলায় বিমানটি ধ্বংস হওয়ার পর এর জ্বলন্ত
ধ্বংসাবশেষের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রের এই খবর নিশ্চিত
করা হয়েছে।
হুতিদের সামরিক
মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি প্রকাশিত ভিডিও বার্তা ও বিবৃতিতে নিশ্চিত
করেন, সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান
সফলভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। তিনি জানান, মারিব প্রদেশের আকাশে রয়্যাল সৌদি এয়ার ফোর্সের বিমানটি স্থল বাহিনীর সামরিক তৎপরতায় সরাসরি সহায়তা করার পাশাপাশি অন্যায় ও শত্রুতামূলক হামলায়
লিপ্ত ছিল। একই সঙ্গে সৌদি সামরিক জোটের বিরুদ্ধে ইয়েমেন ভূখণ্ডে প্রায় সাড়ে চারশো হামলা চালানোর জোরালো অভিযোগ তোলেন এই হুতি কর্মকর্তা।
প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিমানটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মুহূর্তেই জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়ে হুড়মুড় করে নিচে আছড়ে পড়ে। পরবর্তীতে দিনের আলোয় প্রকাশিত দৃশ্যে মরুভূমির পাথুরে এলাকায় ছিটিয়ে থাকা দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া পোড়া ধাতব কাঠামো এবং সৌদি রয়্যাল এয়ার ফোর্সের বিশেষ সামরিক প্রতীক খোদাই করা খাড়া ডানার অংশ দৃশ্যমান হয়। এ সময় ভারী
অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সশস্ত্র কর্মীদের ধ্বংসাবশেষ ঘিরে তল্লাশি চালাতে ও পিকআপ ট্রাকে
দ্রুত এগিয়ে যেতে দেখা যায়।
অন্যদিকে, দুই
পক্ষের এই রক্তক্ষয়ী সামরিক
সহিংসতার মধ্যেই বিশ্বজুড়ে চরম বিতর্কের সৃষ্টি করেছে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী মক্কায় ড্রোন হামলার অভিযোগ। সম্প্রতি সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করে, হুতি মিলিশিয়ারা পবিত্র মক্কা আল-মুকাররমাকে লক্ষ্য
করে একটি বিধ্বংসী ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। সৌদি আরবের এয়ার ডিফেন্স ফোর্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা সময়মতো তৎপরতা চালিয়ে নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ঢোকার আগেই তা সফলভাবে ধ্বংস
করে। জোটের মুখপাত্র জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি একে
চরম অমানবিক ও 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড'
আখ্যা দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি জানান, দুই পবিত্র মসজিদ ও সেখানে অবস্থানরত
লাখ লাখ পুণ্যার্থীর নিরাপত্তা রক্ষা করা সৌদি আরবের জন্য চূড়ান্ত 'রেড লাইন'। তিনি উল্লেখ
করেন, এটি ইয়েমেনি গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে মক্কায় দ্বিতীয়বারের মতো হামলার অন্যায় প্রচেষ্টা।
তবে সৌদি
কর্তৃপক্ষের তোলা মক্কা হামলার এই গুরুতর অভিযোগ
সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা প্রচার বলে প্রত্যাখ্যান করেছে হুতি গোষ্ঠী। নিজেদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে
তারা জানায়, পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে কোনো ধরণের সামরিক হামলা চালানোর প্রশ্নই ওঠে না এবং ইয়েমেন
থেকে ইসলামের কোনো পবিত্র স্থান কখনো হুমকির মুখে পড়বে না।
মক্কার
মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ উল্টো সৌদি শাসকগোষ্ঠীর দিকেই ছুড়ে দিয়ে হুতিরা দাবি করে, আল সৌদ পরিবার
বানোয়াট ঘটনার নাটক সাজিয়ে নিজেদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নীতিহীন মানসিকতা
ধামাচাপা দিতে চাইছে। জোড়া এই পরস্পরবিরোধী ঘটনা
ও মুখোমুখি সামরিক অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত ও ভয়াবহ রূপ
ধারণ করেছে।