ক্রীড়া ডেস্ক
নিজেদের দুর্গ ওল্ড ট্রাফোর্ডে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য এক হারের মুখোমুখি হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ডের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে রেড ডেভিলদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছে ব্রাইটন। ম্যাচের শুরুতে জোড়া গোলে এগিয়ে গিয়েও পরবর্তীতে পরাস্ত হওয়ার এমন তিক্ত স্বাদ ম্যানইউর গায়ে দীর্ঘ ৫০ বছর পর লাগল। ঘরের মাঠে আধশতাব্দী আগের এক লজ্জাজনক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে কাপ টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটি।
খেলার সূচানাতেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আক্রমণাত্মক ফুটবলে মনে হচ্ছিল রাতের শেষটা উদযাপনেই মাতবে গ্যালারি। ওল্ড ট্রাফোর্ডের দর্শকরা উল্লাসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন খেলার প্রথম ১০ মিনিটেই। ম্যাচের ৮ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে চমৎকার বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে গোল করে ম্যানইউকে প্রথম লিড এনে দেন শি লেচি। সেই গোলের ঘোর কাটার আগেই সমর্থকদের আনন্দ দ্বিগুণ করেন ম্যাসন মাউন্ট। সতীর্থ মার্কাস রাশফোর্ডের নেওয়া শট প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক বাধা দিলে বল চলে যায় ফাঁকায় দাঁড়ানো মাউন্টের পায়ে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি তিনি।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও লড়াই ছাড়েনি সফরকারী ব্রাইটন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে (৪৫+১ মিনিট) তারা ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। সতীর্থের বাড়ানো লম্বা ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ম্যানইউ গোলরক্ষকের দুপায়ের ফাঁক দিয়ে জালে বল পাঠান ব্রাইটনের তরুণ ফুটবলার কস্তুলাস। ফলে ২-১ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয় অর্ধে ক্ষিপ্র গতিতে আক্রমণ সাজিয়ে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে পুরো ওল্ড ট্রাফোর্ডকে স্তব্ধ করে দেয় ব্রাইটন। ৬৫ মিনিটে দারুণ ফিনিশিংয়ে দলকে সমতায় ফেরান পাসকেল গ্রোব। এর চার মিনিট পরই (৬৯ মিনিট) ম্যানইউর ভঙ্গুর রক্ষণভাগকে চূর্ণ করে সফরকারীদের উল্লাসে ভাসান ম্যাক্সিম ডি কুপার। ম্যানইউর হজম করা তিনটি গোলেই মূল দায় ছিল রক্ষণের দুর্বলতার; বিশেষ করে ডিয়েগো দালোত ও লেনি ইয়োরোর সঠিক ম্যান মার্কিংয়ের অভাবে গোলগুলো হজম করতে হয়। ব্যবধান সামাল দিতে পরবর্তীতে মাঠে নামানো হয় নিয়মিত তারকা ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও ম্যাথিয়াস কুনহাকে, কিন্তু ভাগ্য ফেরাতে পারেননি তারাও।
ম্যাচের ৭৭ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন রাশফোর্ড, তবে ব্রাইটন গোলরক্ষক জ্যাসন স্টেলি সামনে এগিয়ে এসে তা দারুণভাবে ব্যর্থ করে দেন। অন্যদিকে ৮৪ মিনিটে ব্রাইটনের ডিয়েগো গোমেজ ম্যানইউ গোলরক্ষক কার্ল ডার্লোর শরীরে সরাসরি শট না মারলে হারের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। ক্রীড়া পরিসংখ্যানভিত্তিক সংস্থা অপ্টার তথ্যানুযায়ী, ঘরের মাঠে কমপক্ষে ২ গোলে এগিয়ে থেকে ম্যানইউ সর্বশেষ হেরেছিল ১৯৭৬ সালে টটেনহামের কাছে (৩-২ ব্যবধানে)। দীর্ঘ ৫০ বছর পর ফের সেই একই ব্যবধানে ঘরের মাঠে লজ্জার হার দেখল রেড ডেভিলরা।