ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৫০ বছর পর ঘরের মাঠে ম্যানইউর লজ্জার রেকর্ড ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির বিশেষ অভিযান, অস্ত্র-মাদকসহ আটক ৫৪৬ সুইডেনে ক্ষমতার পটপরিবর্তন: ডানপন্থীদের হারিয়ে জয়ী বামপন্থী জোট ৯/১১ মাস্টারমাইন্ডদের আশ্রয়ের কথা মনে করিয়ে জাতিসংঘে সরব ভারতীয় প্রতিনিধি ব্রিকস সম্মেলনের পরই শি চিনপিংয়ের অসুস্থতার গুঞ্জন গোল বন্যায় ক্যাম্প ন্যু কাঁপাল বার্সা, রাফিনিয়ার অনবদ্য হ্যাটট্রিক প্যারিসে ডাকাতি মামলা: কিম কার্দাশিয়ানকে ১ ইউরো ক্ষতিপূরণের নির্দেশ ইয়েমেনের আকাশে সৌদির এফ-১৫ ধ্বংসের দাবি, ধ্বংসাবশেষের ভিডিও প্রকাশ্যে টানা দ্বিতীয়বার জাতিসংঘ অধিবেশনে যেতে পারলেন না মাহমুদ আব্বাস ইরান ও রাশিয়াকে কোণঠাসা করতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নতুন বিল অনুমোদন

মুখ খোলেনি চীন

ব্রিকস সম্মেলনের পরই শি চিনপিংয়ের অসুস্থতার গুঞ্জন


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:৫২ এএম

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি জল্পনা কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। দাবি করা হয়, সম্মেলন চলাকালে রাষ্ট্রপ্রধান হঠাৎ জ্ঞান হারান এবং পরবর্তীতে গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাঁকে জরুরি চিকিৎসায় বেইজিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

 

তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো বস্তুনিষ্ঠ বা অফিশিয়াল প্রমাণ মেলেনি। চীন কিংবা ভারতকোনো দেশের সরকারই আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত এই অসুস্থতা, স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়া বা হাসপাতালে ভর্তি সংক্রান্ত সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। নিষিদ্ধ সংগঠন চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির চেয়ারম্যান এবং চীনা গণতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহী নেতা ওয়ানজুন শিয়ে দাবি করেন, নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব পালনকালে শি চিনপিং জ্ঞান হারালে তাঁর সাথে থাকা মেডিকেল টিম তাঁকে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরবর্তীতে বিশেষ বিমানে বেইজিংয়ে ফিরিয়ে নিয়ে পিপলস লিবারেশন আর্মির জেনারেল হাসপাতালে (৩০১ হাসপাতাল নামে পরিচিত) তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয় এবং আইসিইউতে রাখা হয়। তবে পরবর্তীতে এক্সে ওয়ানজুনের পোস্টটির সাথে একটি কমিউনিটি নোট যুক্ত করে জানানো হয় যে, বাস্তবে ওই তথ্যের সাথে সত্যতার কোনো ভিত্তি নেই এবং পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ কাল্পনিক।

 

উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতের মাটিতে এটিই ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। সম্মেলন চলাকালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে সম্মেলনের পর সন্ধ্যায় 'ভারত মণ্ডপমে' আয়োজিত মোদির নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট শি অনুপস্থিত থাকলে সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন তীব্র আকার ধারণ করে।

 

 রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধানরা সেখানে উপস্থিত থাকলেও চীনের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ভারত বা চীন সরকারের পক্ষ থেকে নৈশভোজে শির অনুপস্থিতি নিয়ে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়া না হলেও, দীর্ঘ ব্যস্ততা শারীরিক ক্লান্তি কাটাতে তিনি হোটেলে অবস্থান করেছিলেন বলে একটি কূটনৈতিক সূত্রে আভাস পাওয়া যায়।

 

সম্মেলনের মূল অধিবেশনে একটি প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নরেন্দ্র মোদি বক্তব্য রাখার সময় চীনের প্রতিনিধিদলের দিকে তাকিয়ে শি চিনপিংয়ের উদ্দেশ্যে জানতে চান, 'সব ঠিক আছে তো?' এর জবাবে চীনা প্রেসিডেন্টকে কিছু মন্তব্য করতে দেখা যায়। এই অনানুষ্ঠানিক কথাপোকথন এবং পরবর্তী নৈশভোজে অনুপস্থিতিকেই সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর বিপরীত চিত্র তুলে ধরে চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম তাদের বার্তা সংস্থা গোভ ডট সিএন জানায়, ব্রিকস সম্মেলন শেষে প্রেসিডেন্ট শি রবিবার সন্ধ্যায় রাজনৈতিক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য কাই শি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং -কে সঙ্গে নিয়ে সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে বেইজিংয়ে ফিরে এসেছেন।

 

 চীনের সরকারি কোনো নথিতেই প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবনতি বা হাসপাতালে ভর্তির কথা উল্লেখ করা হয়নি। মূলত বিদেশে অবস্থানরত চীনা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ভিত্তিহীন সামাজিক মাধ্যম প্রচারণার ফলেই বিশ্বজুড়ে এই রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর