ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৫০ বছর পর ঘরের মাঠে ম্যানইউর লজ্জার রেকর্ড ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির বিশেষ অভিযান, অস্ত্র-মাদকসহ আটক ৫৪৬ সুইডেনে ক্ষমতার পটপরিবর্তন: ডানপন্থীদের হারিয়ে জয়ী বামপন্থী জোট ৯/১১ মাস্টারমাইন্ডদের আশ্রয়ের কথা মনে করিয়ে জাতিসংঘে সরব ভারতীয় প্রতিনিধি ব্রিকস সম্মেলনের পরই শি চিনপিংয়ের অসুস্থতার গুঞ্জন গোল বন্যায় ক্যাম্প ন্যু কাঁপাল বার্সা, রাফিনিয়ার অনবদ্য হ্যাটট্রিক প্যারিসে ডাকাতি মামলা: কিম কার্দাশিয়ানকে ১ ইউরো ক্ষতিপূরণের নির্দেশ ইয়েমেনের আকাশে সৌদির এফ-১৫ ধ্বংসের দাবি, ধ্বংসাবশেষের ভিডিও প্রকাশ্যে টানা দ্বিতীয়বার জাতিসংঘ অধিবেশনে যেতে পারলেন না মাহমুদ আব্বাস ইরান ও রাশিয়াকে কোণঠাসা করতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নতুন বিল অনুমোদন

টানা দ্বিতীয়বার জাতিসংঘ অধিবেশনে যেতে পারলেন না মাহমুদ আব্বাস


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:৩৭ এএম

আগামী সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বহুল প্রতীক্ষিত অধিবেশনে সরাসরি অংশ নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের। তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এর মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব সংস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈশ্বিক মঞ্চে সশরীরে উপস্থিত থাকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রপ্রধান।

 

কেবল প্রেসিডেন্টই নন, একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) সদস্যদের ওপর চলমান ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে কূটনৈতিক চত্বরের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের কথা জানা গেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের শাসনতান্ত্রিক প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে চরম ব্যর্থতা এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে টেকসই শান্তির সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আয়োজনের মাত্র কয়েক দিন আগে মার্কিন কংগ্রেসকে এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর।

 

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, পিএলও এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় পূর্ব প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষায় একাধিকবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যাওয়ার যে কূটনৈতিক চেষ্টা তারা চালাচ্ছে, তা ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিপন্থী।

 

আমেরিকার দাবি, আন্তর্জাতিক দরকষাকষি ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার টেবিলে সমাধানের চেষ্টা না করে একতরফাভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিশ্ব স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে মূলত আনুষ্ঠানিক আলোচনা এড়িয়ে যেতে চাইছেন ফিলিস্তিনি নেতারা। একই সঙ্গে পিএলও এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সংঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ভাতা প্রদান ও উগ্রবাদকে উৎসাহিত করার গুরুতর অভিযোগ অব্যাহত রেখেছে মার্কিন প্রশাসন।

 

নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ পরিষদের ৮১তম বার্ষিক অধিবেশনকে সামনে রেখে ভিসা সংক্রান্ত এসব কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো। তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগে ২০২৫ সালেও জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পূর্বে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা স্থগিত বা বাতিল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় আয়োজক দেশের সদর দফতর সংক্রান্ত চুক্তির কারণে জাতিসংঘ মিশনের কিছুটা সুযোগ থাকলেও প্রেসিডেন্ট আব্বাস সশরীরে অংশ নিতে পারেননি। পরবর্তীতে সদস্য দেশগুলোর অনুমোদনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি।

 

অন্যদিকে আব্বাসকে ভিসা না দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞার আইনি ভিত্তি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে প্রশ্ন পাঠায় আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু। এর জবাবে পররাষ্ট্র দপ্তরের উপমুখপাত্র পালোমা চাকন এক ই-মেইল বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান বিশদভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন প্রতিটি ভিসা সংক্রান্ত বিষয়কে দেশের ‘জাতীয় নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত’ হিসেবেই গুরুত্ব দেয় এবং জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আগত অতিথিদের ক্ষেত্রেও এই নীতি সমভাবে প্রযোজ্য।

 

পালোমা চাকন জানান, আয়োজক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক দায়িত্ব শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে; তবে কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা সম্ভব নয়। সর্বোচ্চ মানের যাচাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে বা শর্ত ভাঙলে যে কোনো আবেদনকারীর ভিসা প্রত্যাখ্যান করাই ওয়াশিংটনের স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া বলে তিনি নিশ্চিত করেন। এই ঘোষণার পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর