ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষে এ নিহতের ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় কারের আরও এক যাত্রী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন, যাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আশু চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে গজারিয়া উপজেলার জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। উদ্ধারকারী সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামগামী 'নিউ বলেশ্বর' পরিবহনের একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রাইভেটকারের যাত্রীরা স্থানীয় মায়ামি রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার শেষ করে ঢাকার দিকে রওনা হয়েছিলেন। বাসের ধাক্কায় কারটি মুহূর্তের মধ্যে দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটিতে চালকসহ মোট পাঁচজন আরোহী ছিলেন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই গজারিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি বিশেষ উদ্ধারকারী ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনাস্থল থেকেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গাড়ির ভেতরে আটকে থাকা চালকের নিথর দেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। গাড়ি থেকে আহত অন্য চার যাত্রীকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আহত অপর যাত্রীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় রেফার করা হয়।
দুর্ঘটনা ও উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়েই উদ্ধারকারী টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। নিহত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে নিহতদের নাম-পরিচয় এবং দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ চলমান রয়েছে।