ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

দেবিদ্বারে মর্মান্তিক জোড়া খুন: মাকে কুপিয়ে ও শিশুকে আছড়ে হত্যা


  • আপলোড সময় : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৩:৪০ পিএম

কুমিল্লা প্রতিনিধি 

কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক যুবকের হঠাৎ পৈশাচিক ও উন্মত্ত হামলায় নিজ মা এবং আট মাস বয়সী অবুঝ ভাতিজি নৃশংসভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী হামলায় বাধা দিতে গিয়ে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে জখম হয়েছেন অভিযুক্তের ভাবিও। সোমবার সকালে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক জোড়া খুনের ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাতক যুবককে ঘরের ভেতর বন্দি করে রাখেন এবং পুলিশে খবর দেন।

 

ঘটনাটি ঘটেছে দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে। সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে হঠাৎ করেই ঘাতক যুবক ইমনের (২৪) মধ্যে প্রচণ্ড উত্তেজনা দেখা দেয়। তিনি ওই বাড়ির মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে। পারিবারিক সূত্র ও প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, কোনো একটি অজানা কারণে ইমন হঠাৎ মারাত্মক উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং ঘর থেকে ধারালো দা বের করে নিজের জন্মদাত্রী মা পেয়ারা বেগমকে লক্ষ্য করে কোপাতে শুরু করেন। ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান পেয়ারা বেগম।

 

মায়ের মৃত্যুর পরই ইমনের আক্রমণ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। তিনি ঘরের ভেতর থাকা তাঁর ভাইয়ের আট মাস বয়সী অবুঝ কন্যাসন্তানকে ধরে এনে সজোরে মাটিতে আছড়ে মারেন। এতে মারাত্মক চোট পেয়ে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। রক্তারক্তি আর পরিবারের সদস্যদের তীব্র চিৎকার শুনে দ্রুত ছুটে আসেন ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগম। তিনি ঘাতক ইমনকে নিরস্ত করতে এবং শিশু ও শাশুড়িকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ইমন তাঁর ওপরও চড়াও হন। ধাওয়া করে রাবেয়া বেগমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন ইমন।

 

পরবর্তীতে চারপাশের প্রতিবেশীরা বিকট চিৎকার শুনে মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে জমা হতে থাকেন। তাঁরা দ্রুত এগিয়ে এসে রক্তাক্ত ও সংকটজনক অবস্থায় রাবেয়া বেগমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে পাঠান। একই সময়ে এলাকাবাসী সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে রক্তমাখা অস্ত্রসহ ঘাতক ইমনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং পার্শ্ববর্তী একটি ঘরের ভেতর আটকে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন।

 

খবর পেয়ে দেবিদ্বার থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয় এবং আটক ইমনকে নিজেদের জিম্মায় নেয়। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রাথমিক অনুসন্ধানে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবক ইমন দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তবে কী কারণে বা কোন পরিস্থিতির শিকার হয়ে তিনি নিজের জন্মদাত্রী মা এবং নিষ্পাপ দুধের শিশুকে এভাবে হত্যা করলেন, সে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়। পুলিশ পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর