লালমনিরহাট প্রতিনিধি / : 61
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্ত এলাকায় এক সফল অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) একটি চৌকস ও বিশেষ টহল দল মধ্যরাতে সীমান্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১৯৬ বোতল ভারতীয় অবৈধ মাদক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। জব্দ করা এসব মাদকের মধ্যে রয়েছে ১৪৯ বোতল নিষিদ্ধ এস্কাপ সিরাপ এবং ৪৭ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ। বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া এই মাদকের আনুমানিক সিজার মূল্য ধরা হয়েছে ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা। সীমান্তে মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির এই তাত্পক্ষণিক পদক্ষেপ স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হাতীবান্ধা সীমান্ত দিয়ে এসব মাদকের চালান দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল চোরাকারবারীদের।
সীমান্তবর্তী সূত্র ও বিজিবির সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে তিস্তা ব্যাটালিয়নের আওতাধীন পূর্ব সারডুবি সীমান্ত পর্যবেক্ষণ পোস্টের (বিওপি) একটি বিশেষ টহল দল গোপন তথ্য ও নিয়মিত সুরক্ষার অংশ হিসেবে হাতীবান্ধা সীমান্তে টহল জোরদার করে। টহল দেওয়ার একপর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তরেখা থেকে আনুমানিক ৩০০ মিটার বাংলাদেশের ভেতরে দোলাপাড়া এলাকায় সন্দেহভাজন কিছু লোকজনের আনাগোনা লক্ষ্য করেন। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা সঙ্গে থাকা মালামালের ব্যাগ ফেলে দ্রুত অন্ধকার ও গহীন এলাকার দিকে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ব্যাগ ভর্তি অবস্থায় পরিত্যাক্ত ও মালিকবিহীন এই ভারতীয় মাদকদ্রব্যের চালানটি উদ্ধার করেন।
সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করার বিষয়ে তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) জানায়, সীমান্তে চোরাচালান রোধ, অবৈধ পণ্যের আদান-প্রদান এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত অপরাধ দমন করতে বিজিবি সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি দিন-রাত নিরবচ্ছিন্ন বিশেষ টহল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে বিজিবি বদ্ধপরিকর এবং চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে এই শক্ত অবস্থান আগামীতেও সমানভাবে বজায় থাকবে।
বিজিবি কর্মকর্তারা আরও জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ উপায়ে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য যেন দেশের অভ্যন্তরে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে সীমান্ত রক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ সজাগ ও প্রস্তুত রয়েছে। উদ্ধার করা এসব মাদকদ্রব্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে জমা রাখা হয়েছে এবং পরবর্তীতে আইনানুযায়ী ধ্বংস বা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমান্তবর্তী জনপদে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিহত করতে বিজিবির এই কঠোর নজরদারি ও বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।