ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্পেনে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৩৯ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম

রাতভর পুলিশি টহলের নির্দেশ

বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর প্রশাসন


  • আপলোড সময় : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৫:৪৮ পিএম

হবিগঞ্জের বাহুবলে রাতের আঁধারে বেআইনিভাবে ড্রেজার বসিয়ে নদীর বালু উত্তোলন এবং রাস্তা দিয়ে তা পাচারের অনৈতিক মহোৎসব রুখতে অত্যন্ত কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের সৌন্দর্য, ভৌগোলিক ভারসাম্য ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে এখন থেকে প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্পর্শকাতর পয়েন্ট এবং বালু পরিবহনের পথগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন পুলিশি টহল জোরদারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রশাসনের এই নড়েচড়ে বসার উদ্যোগে দীর্ঘদিনের ভূগান্তি থেকে রেহাই পাওয়ার আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


উপজেলার ভৌগোলিক পরিবেশ ও স্থানীয় সূত্রে বিস্তারিত জানা যায়, বাহুবল সদর ইউনিয়নের হরিতলা এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে একশ্রেণির প্রভাবশালী অসাধু চক্র রাতের নীরবতার সুযোগ নিয়ে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে অবাদ ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। পরবর্তীতে সেখান থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ বালু সাতকাপন ইউনিয়নের বাহুবল-মধুপুর চা-বাগান হয়ে হামিদনগর সড়ক দিয়ে অনায়াসে অন্যান্য এলাকায় পরিবহন ও পাচার করা হতো। নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজার চালিয়ে বালু তোলায় একদিকে যেমন নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি ও বসতভিটা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছিল, অন্যদিকে ভারী বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে নির্মিত গ্রামীণ রাস্তাঘাটও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।


উপজেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, বেআইনি ও ক্ষতিকর এই বালু উত্তোলন প্রতিরোধ করতে বাহুবল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইতিপূর্বে একাধিকবার যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান চালানো হয়েছিল এবং পরিচালনা করা হয়েছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট। কিন্তু আইনি অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি শিথিল হলেই অসাধু বালু খেকোরা আবার নতুন উদ্যমে তাদের অপতৎপরতা শুরু করত। ফলে প্রশাসনিক পদক্ষেপ সত্ত্বেও সমাধান না আসায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছিলেন এলাকার সাধারণ জনগণ।


এই জটিল ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিরসনে গত ১১ জুন অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় গভীর রাতে পুলিশি নজরদারি ও টহল কয়েক গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার সেই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) কার্যকর ও আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে লিখিত নির্দেশনা প্রদান করেছেন। প্রেরিত চিঠিতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, পরিবেশ বিপর্যয় রোধ এবং জনস্বার্থ সুরক্ষায় রাতভর কঠোর পুলিশি টহল নিশ্চিত করতে হবে এবং এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।


এদিকে প্রশাসনের এই যুগোপযোগী পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করলেও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয়দের মতে, আকস্মিক বা সাময়িক অভিযান চালিয়ে বালু খেকোদের রোধ করা কঠিন। বালু উত্তোলনের নির্দিষ্ট স্থান ও পরিবহন রুটে বিরামহীন পুলিশি টহল বজায় থাকলে এই অসাধু চক্রটি পুরোপুরি থামতে বাধ্য হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর