গাজীপুরের শিল্পনগরী কোনাবাড়ীতে দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিসংবলিত পোস্টার ও ব্যানার নিয়ে তীব্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই নির্ধারিত সময়ের বকেয়া বেতন আদায়ের লক্ষ্যে আমবাগ এলাকার প্রধান সড়ক ও আশপাশের সংযোগ সড়ক অবরোধ করে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক অবস্থান নেন। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকেরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে নানা প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। বকেয়া বেতন না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় তীব্র আর্থিক অনটন ও চরম মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন বলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।
ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, কোনাবাড়ী আমবাগ এলাকায় পরিচালিত 'হানি ওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেড' নামক তৈরি পোশাক কারখানার প্রায় চার থেকে পাঁচশত শ্রমিক এই সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নেন। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও দীর্ঘ দিন ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের কষ্টার্জিত শ্রমের পাওনা পরিশোধ নিয়ে নানা টালবাহানা করে আসছে। টানা দুই মাসের বেতন বকেয়া পড়ে থাকায় ঘরভাড়া পরিশোধ, স্থানীয় দোকানবাকি শোধ এবং দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যয় মেটাতে গিয়ে তারা চরমভাবে হিমশিম খাচ্ছেন। বকেয়া আদায়ে বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও কারখানা কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে ব্যস্ততম সড়কে শ্রমিক আন্দোলনের খবর পেয়ে শিল্প এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শিল্প পুলিশ ও কোনাবাড়ী থানা পুলিশের একাধিক চৌকস দল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভরত শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা চালান এবং সড়ক অবরোধ সরিয়ে নিতে তাদের প্রতি অনুরোধ জানান। সড়ক সচল রাখতে ও এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে আমবাগ এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশের সময়োপযোগী তৎপরতায় বর্তমানে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
শিল্প এলাকার বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে কোনাবাড়ী থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন জানান, শ্রমিকদের বকেয়া পাওনার সুনির্দিষ্ট বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। ইতোমধ্যে কারখানা মালিকপক্ষের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আলোচনার ভিত্তিতে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমিক প্রতিনিধি ও কারখানার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মধ্যে যৌথ সভার আয়োজন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকটটির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
তবে শ্রমিকদের উত্থাপিত অভিযোগ ও দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের কোনো মন্তব্যও পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে রাজপথে নেমে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের দুই মাসের বকেয়া পাওনা পরিশোধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে, তবে আগামীতে তারা কর্মবিরতিসহ আরও কঠোর ও ব্যাপক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।