দীর্ঘদিনের বর্ণাঢ্য সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ত্যাগ, রাজপথের ধারাবাহিক সক্রিয়তা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে ঝালকাঠি জেলা যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদের আলোচনায় উঠে এসেছেন বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক সাজু। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দলের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে মাঠপর্যায়ে অনন্য ভূমিকার কারণে তাকে জেলা যুবদলের নেতৃত্বদানকারী পদে দেখতে চান তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ। বিশেষ করে তরুণ ও রাজপথের কর্মীদের কাছে সাজু দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ঝালকাঠি জেলা যুবদলের নতুন নেতৃত্ব ও পদ বণ্টন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হতেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে তার নাম ব্যাপকভাবে সামনে আসছে।
এনামুল হক সাজুর রাজনীতিতে হাতেখড়ি মূলত ছাত্রসংগঠন থেকে। ঝালকাঠি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি প্রথমে ক্যাম্পাসে দলের ভিত্তি মজবুত করেন। পরবর্তীতে তিনি ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। ছাত্ররাজনীতির দিনগুলো পার করে তিনি যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং বর্তমানে ঝালকাঠি জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করছেন। ঝালকাঠির রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ পথচলা এবং প্রতিটি পদে দায়িত্বশীল ভূমিকা তাকে তৃণমূল কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও এনামুল হক সাজু রাজপথের সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছিলেন। অগণতান্ত্রিক শাসন ও দমন-পীড়নের মুখোমুখি হয়েও তিনি পিছু হটেননি। রাজপথের এই প্রতিবাদী ভূমিকার কারণে তাঁকে অসংখ্য রাজনৈতিক মামলার শিকার হতে হয়েছে এবং একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনের শত নির্যাতন সহ্য করেও দলের প্রতি তাঁর অবিচল আনুগত্য নেতাকর্মীদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। ঝালকাঠির রাজপথে লড়াই করা ত্যাগী নেতাদের সঠিক মূল্যায়ন করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় তরুণ নেতাকর্মীরা।
নিজের রাজনৈতিক পথচলা ও রাজপথের ত্যাগের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে এনামুল হক সাজু বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। এ সময়ে অসংখ্য মিথ্যা ও রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়ে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সবসময় রাজপথে ছিলাম। বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যেভাবে, যখন যে নির্দেশনা দিচ্ছেন, সেভাবেই দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছি।”
তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতেও জিয়া পরিবারের প্রতি আস্থা ও বিশ্বস্ততা রেখে রাজপথে থেকে দলের জন্য কাজ করে যেতে চাই। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, রাজনীতি করতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। ত্যাগ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকার মূল্যায়ন একদিন অবশ্যই হবে—ইনশাআল্লাহ।” তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা, ত্যাগ ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে জেলা যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্যদের দায়িত্ব দেওয়া হোক।