নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি, সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, জটিলতা প্রতিরোধ এবং সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু)-তে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় নিকডুর মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে নিকডু শিক্ষক সমিতি ও ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে এই সভা আয়োজিত হয়। সভায় কিডনি রোগীদের ডেঙ্গু সংক্রমণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি মূল্যায়ন, সঠিক তরল ব্যবস্থাপনা, কিডনির কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, ডেঙ্গুর নানা জটিলতা এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে ডায়ালাইসিসসহ চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সিকেডি হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলাম এবং নিকডুর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. রাশেদ আনোয়ার। নিকডু শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মশিউর আরেফিনের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার মো. কবির হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আ ন ম এহসানুল করিম। এছাড়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নেফ্রোলজি বিভাগের ডা. আল মাহমুদ।
বক্তারা বলেন, কিডনি জটিলতায় ভোগা রোগীদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে তাদের চিকিৎসা প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে তরল ব্যবস্থাপনা (ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট), রোগীর রেনাল ফাংশন বা কিডনির কার্যকারিতা রক্ষা, রক্তক্ষরণজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনীয়তা সঠিক সময়ে নির্ধারণে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি। এ ধরনের রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নেফ্রোলজি, ইউরোলজি ও মেডিসিনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তারা।
আলোচনা সভা শেষে হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি হাসপাতালের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে সমাপ্ত হয়। অনুষ্ঠানে পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. কবির আলম, ডা. ফজল নাসের, অধ্যাপক ডা. সুহেল আল মুজাহিদ, ডা. ফেরদৌস মাহমুদ ফয়সল, ডা. মো. নজরুল ইসলাম মৃধা, ডা. মো. রোকনুজ্জামান খান, ডা. মো. আসাদুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. মরিয়ম মোবাশ্বেরা, ডা. মমতাজ, ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ মোর্শেদ, ডা. ফজলে এলাহী, সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুর রহমান, ডা. মো. মনোয়ারুল ইসলাম, ডা. মো. আসাদুজ্জামান রাজীব, ডা. মো. গাজী আরিফুর রহমান, আবাসিক সার্জন ডা. মো. সানাউল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ রানা কবীর, ডা. লিয়াকত আলী, ডা. জায়েদ এহসান, আবাসিক চিকিৎসক ডা. মাহমুদ হাসান সবুজ, ডা. বায়েজিদ হোসেনসহ নেফ্রোলজি, ইউরোলজি, পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি ও প্যারাক্লিনিক্যাল বিভাগের তিন শতাধিক চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।