পটুয়াখালী মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিবসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলার অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এবং আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় অবশেষে মামলার বাদী জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেছিলেন ৬৩ বছর বয়সী জাহানারা বেগম। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, তার ১২ বছর বয়সী নাতনি নাইমা রাবেয়া পটুয়াখালী মডেল মসজিদে আরবি পড়তে গেলে মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব তানভীর হোসেন, খাদেম সাব্বির ও আহমাদুল্লাহ তাকে মক্তবের স্টোররুমে নিয়ে ধর্ষণ করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার বর্তায় পিবিআইয়ের ওপর।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে পরিষ্কার উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বাদীর আনা ধর্ষণের অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ বা সত্যতা পাওয়া যায়নি। ইমাম তানভীর হোসেন জানান, মডেল মসজিদ থেকে বিভিন্ন সময় মালামাল চুরি হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লিদের সহায়তায় জাহানারা বেগমের নাতিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল। পরে বয়স কম হওয়ায় পুলিশ মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে এই মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘদিন আইনি হয়রানির শিকার হওয়ার পর মিথ্যা মামলার এই ঘটনায় ন্যায়বিচার পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভিযুক্তরা। পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পর্যালোচনা করে মামলার বাদী জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে।