টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় সেতু নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি পরিদর্শনের পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। এ ঘটনায় তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার দুপুরে বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কের ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুটি পরিদর্শন করেন ইউএনও মো. ইকবাল হোসেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি নির্মাণকাজের বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও বলেন, বিষয়টি জানার পর সেতুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সেতুটির পুনর্নির্মাণের কাজ পেয়েছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। দিনের পরিবর্তে রাতে কাজ করার সময় তারা রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি দেখতে পান।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, কিছু অংশে শাটার বের করার সুযোগ না থাকায় সেখানে বাঁশ দিয়ে খাঁচা তৈরি করে সিমেন্টের বস্তা দিয়ে ঢেকে ঢালাই করা হয়েছে। বড় অংশগুলোতে শাটার ব্যবহার করে কাজ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, সেতু নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে কাজটি উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের নয়, জেলা প্রকৌশল দপ্তরের অধীনে। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
এ
বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা
করা হলেও তিনি সাড়া
দেননি।