নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের এভিয়েশন খাতের সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন করে আরও ১১টি এয়ারক্রাফট ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও রুট সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে আগামী দিনে ইউরোপীয় জায়ান্ট এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা শুরু করতে পারে বাংলাদেশ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, দেশের বিমানবহর আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও বেগবান করতে চাহিদার ভিত্তিতেই নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তি অনুষ্ঠানে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতি দুই দেশের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের বিভিন্ন কূটনৈতিক সফলতার চিত্র তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, সফরের শুরুতেই স্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে গেটস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বিশেষ করে কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান এবং দেশে মানসম্মত টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসন খাতকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সাইড ইভেন্টের কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, ১২ লাখেরও বেশি শরণার্থীর জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা তহবিল হ্রাস পাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অর্থবহ সহযোগিতা অপরিহার্য। চীন ও মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কূটনীতিতে আলোচনার সব দরজাই সর্বদা খোলা রাখতে হয় এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দেশের কৌশলগত অংশীদার ও প্রবাসীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সবসময় শান্তিপূর্ণ সংলাপের পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জলবায়ু তহবিলের অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশ্বমঞ্চে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।