ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রামের অগ্নিযুগের প্রথম নারী শহীদ ও অকুতোভয় বিপ্লবী বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস আজ। ১৯৩২ সালের এই দিনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই মহান বিপ্লবী। অভিযান সফল করে ফেরার পথে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে আহত হন তিনি। পরবর্তীতে পুলিশের হাতে বন্দি হওয়ার অবমাননা এড়াতে স্বেচ্ছায় পটাশিয়াম সায়ানাইড সেবন করে অমরত্বের পথ বেছে নেন এই বীরকন্যা।
উপমহাদেশের মুক্তিসংগ্রামের কিংবদন্তি বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা ছিলেন প্রীতিলতা। ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নে জন্ম নেওয়া এই মহীয়সী নারীর বাবা জগদ্বন্ধু ওয়াদ্দেদার ছিলেন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল অফিসের হেড ক্লার্ক এবং মা প্রতিভা দেবী ছিলেন গৃহিণী। শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন প্রীতিলতা। তিনি ১৯২৭ সালে ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে লেটার মার্কসহ সফলতার সঙ্গে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন।
এরপর ইডেন মহিলা কলেজে অধ্যয়নের সময় তৎকালীন বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ঘটে। বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার স্বাক্ষর রেখে ১৯২৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আইএ পরীক্ষায় তিনি সম্মিলিত মেধাতালিকায় পঞ্চম স্থান অধিকার করেন এবং ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম হন। উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বেথুন কলেজ থেকে দর্শন শাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। শিক্ষা সমাপ্তির পর শিক্ষকতাকে ব্রত হিসেবে বেছে নিয়ে নন্দনকানন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন প্রীতিলতা। তবে শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে নারী সমাজকে সংগঠিত করা এবং তাদের বিপ্লবী প্রশিক্ষণ দেওয়ার মহান দায়িত্ব অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে পালন করেছিলেন তিনি।